রাজধানীর দয়াগঞ্জের ঘুন্টিঘর এলাকার মাদক স্পট থেকে আটকের পর এক ব্যক্তিকে পুলিশ ভ্যানে রাখা হয়েছে। ২০ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর দয়াগঞ্জের ঘুন্টিঘর এলাকার মাদক স্পট থেকে আটকের পর এক ব্যক্তিকে পুলিশ ভ্যানে রাখা হয়েছে। ২০ অক্টোবর ২০২৬

ইশরাকের অভিযান চালানো সেই জায়গায় এবার পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, আটক ৩

রাজধানীর দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং-সংলগ্ন ঘুন্টিঘর এলাকার মাদক স্পটে আজও অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এই স্পটেই গত শনিবার অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান চালিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পরে তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

আজ মঙ্গলবার সকালে সেখানে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয় বলে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন।

গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকালের যৌথ অভিযানের পরও স্পটটিতে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবন চলছিল। খবর পেয়ে সকালে অভিযান চালায় পুলিশ। তিনজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা সবাই মাদকসেবী। তাদের কাছে গাঁজাসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুলিশ অভিযান শুরু করলে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। অনেকে দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। পরে ওই এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর বেলা একটা পর্যন্ত মাদক বিক্রেতা ও সেবীদের আর সেখানে দেখা যায়নি।

গেন্ডারিয়ার থানার ওসি মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ঘুন্টিঘরে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। এখানে ভাসমান মাদক বিক্রেতা, সেবীরাই বেশি আসে। এ জন্য পুরোপুরি নির্মূল করা যাচ্ছে না। স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করছে পুলিশ। পূজা শেষ হলে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। প্রয়োজনে সেখানে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন রাখা হবে।

এর আগে গতকাল সোমবার বিকেলে স্পটটিতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) যৌথ অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে আটক করে। পরে তাঁদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাদক সেবনের অস্থায়ী কাগজের ছাউনি ও ঝুপড়িগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

গত শনিবার এ স্পটে ব্যক্তিগত ও সহযোগীদের নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সেখানে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে উপস্থিত লোকজনের দিকে তাঁর তেড়ে যাওয়ার চিত্র দেখা যায় ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে অভিযানে অংশ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে সরকার ও তাঁর নিজ দল বিএনপির ভেতরেও তীব্র অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়।

দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত রোববার ইশরাক হোসেনকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন।