রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি (৪৬) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি নম্বর থেকে ব্যবসায়ীদের কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি করা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কাজ না হলে নিজস্ব শুটার দিয়ে দিনদুপুরে গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
আজ শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডের ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি।
মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, মতিঝিল এলাকায় চাঁদাবাজি ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শুটার তানিম রেজা ওরফে বাপ্পিকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টায় হোটেল পূর্বাণী এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর আরও চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে বিদেশি তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাতটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার অন্য চারজন হলেন মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭), মানিক কাজী (৫০) ও রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫)।
মতিঝিল থানার পুলিশ সূত্র জানায়, তানিম দীর্ঘদিন ধরে মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় পশুর হাটের ইজারা, চাঁদাবাজি আর শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হয়ে কাজ করতেন। ব্যবসায়ীদের কাছে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করতেন। একজন ব্যবসায়ীকে গুলি করার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তানিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ডিএমপি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, গত ১৯ মে দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের একজন ইজারাদারের অফিসে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। এর আগে ১৫ মে একই ব্যবসায়ীর কাছে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা হয়। তদন্তে তানিম ও তাঁর সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ আরও জানায়, শুক্রবার রাতে দক্ষিণ কমলাপুরে তানিমের অফিসে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচটি রিভলভারের গুলি, দুটি পিস্তলের গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক গান ও একটি চায়নিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে।
মতিঝিল থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তানিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, নারী–শিশু নির্যাতন, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাতটি মামলা রয়েছে।
শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সঙ্গে তানিমের কোনো সম্পর্ক আছে কি না—সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, তানিম কার সহযোগী ও কার অধীনে কাজ করেছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এটা সময়সাপেক্ষ বিষয়। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হবে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।