
রাজধানীর পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্রের মহড়া ও শোডাউনের ভিডিও ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিলেন ‘ফোর স্টার’ গ্রুপের সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে মশিউর–মামুন গ্রুপের সাতজন এবং মোক্তার গ্রুপের একজনসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি গুলি, দেশীয় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে এসআরবি-৪। গত সোমবার দিবাগত রাতে এসআরবি–৪–এর একটি দল পল্লবী থানার সিরামিক এলাকা ও ১২ নম্বর ঝিলপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জুয়েল রানা (২৬), সায়মন (২০), রমজান (২২), বিজয় (২৩), ফজলে রাব্বি চিকু (২৩), আফসার হোসেন জিম (১৯), জাহাঙ্গীর হোসেন ও মিশন ইসলাম ওরফে মিনহাজুল ইসলাম। তাঁদের মধ্যে রমজানের নামে দুটি, ফজলে রাব্বির বিরুদ্ধে একটি, মিশনের বিরুদ্ধে দুটি ও বিজয়ের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে।
এসআরবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আফসার ‘ফোর স্টার’ গ্রুপের মশিউর-মামুন অংশের শুটার হিসেবে পরিচিত। আফসার ও তাঁর সহযোগী সায়মনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি গুলি উদ্ধার করা হয়। সায়মন অস্ত্র বহন ও গুলিবর্ষণের সময় আফসারের সঙ্গে সামনের সারিতে থাকতেন।
গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর পল্লবী এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ করতেন উল্লেখ করে এসআরবি জানিয়েছে, তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় ২৫টি ইয়াবা বড়ি ও ১৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা রয়েছে।
এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মশিউর-মামুন ও মোক্তার গ্রুপের হয়ে পল্লবী এলাকায় জমি ও স্থাপনা দখল, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে বিজয় ও ফজলে রাব্বি চিকু অস্ত্রধারী সদস্য হিসেবে পরিচিত। রমজানও গ্রুপটির সক্রিয় সদস্য। মিশন ওরফে চোর মিশন চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত। আর জুয়েল রানা মোক্তার গ্রুপের সক্রিয় অস্ত্রধারী সদস্য। বর্তমান তিনি মোক্তার গ্রুপের অন্যতম সদস্য সাবু ও পাগলা মামুনের হয়ে কাজ করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসআরবি জানায়, মিরপুর, পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এসব অপরাধের সংবাদ প্রকাশ করায় এক সাংবাদিকের বাসায় হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।