
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করলেন আদালত। রায়ে আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।
আসামির জবানবন্দি, তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য ও চিকিৎসকের প্রতিবেদন অনুযায়ী আসামি সোহেল রানা দোষী প্রমাণিত হয়েছেন বলে পর্যালোচনায় আদালত জানান। অপরাধে সব ধরনের সহযোগিতা করায় তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারও একই অপরাধে অপরাধী বলে আদালত জানিয়েছেন।
আজ রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এজলাসে আসেন। এরপর তিনি এই মামলার রায় পড়া শুরু করেন। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে রায় ঘোষণা করেন।
আদালত রায়ের পর্যালোচনায় জানান, এই মামলায় চিকিৎসকের সাক্ষ্য ও তথ্যে প্রমাণিত হয় যে ওই শিশুকে ধর্ষণ ও তার পরে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী পুলিশের সাক্ষ্যেও বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। ১ নম্বর থেকে ১৬ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্য থেকে উঠে আসে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর আসামি সোহেল রানা গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। এ সময় আরেক আসামি স্বপ্না আক্তার ওই ফ্ল্যাটেই ছিলেন। হত্যা ও ধর্ষণকাজে বাধা না দিয়ে তিনি অপরাধে সহযোগিতা করেন। ফলে আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার একই অপরাধে অপরাধী।
রায় পর্যালোচনায় আদালত আরও বলেছেন, সব সাক্ষ্য ও তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে এটা প্রমাণিত যে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে আসামি সোহেল রানা ওই শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং হত্যা করেন। আদালত আসামি সোহেল রানার জবানবন্দিও উল্লেখ করেন। জবানবন্দিতে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন।
এই মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে ও আরেক আসামি স্বপ্না আক্তারকে সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে প্রিজন ভ্যান থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় নামিয়ে হাজতখানায় রাখা হয়।
এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। শিশুটি ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় গত ১৯ মে। সেই হিসাবে ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় আজ রায় ঘোষণা করা হলো।
ঘটনার দিন (১৯ মে) যে সময় পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়, তার আগেই ফ্ল্যাটটির বাসিন্দা আসামি সোহেল শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। বাসা থেকে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে তখনই আটক করা হয়। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।
গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। এ মামলায় ১ জুন সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর চার্জ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত।
ঘোষণা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং প্রথম আলোর নীতিমালা অনুসারে এই প্রতিবেদনে শিশুটি ও তার মা–বাবার নাম,পরিচয় দেওয়া হলো না।