শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের পর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া রবিউল ইসলাম। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের পর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া রবিউল ইসলাম। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ৪ দিনের রিমান্ডে

সন্দেহজনক গতিবিধি এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে নাশকতায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার রবিউল ইসলামের (৪৪) চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রবিউল নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আজ দুপুরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার দলের উপপরিদর্শক (এসআই) বিনয় কুমার রায় আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। বেলা পৌনে তিনটার দিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় রবিউলকে আদালতের হাজতখানা থেকে এজলাসে তোলা হয়। তবে আদালতের নিয়ম ভেঙে শুনানির আগেই ওকালতনামায় আসামির স্বাক্ষর নেওয়ায় আইনজীবী রুবেল আহমেদের শুনানি গ্রহণ করেননি আদালত। পরে বিচারক আসামির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ২২ সেপ্টেম্বর ডিবির করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রবিউলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কের ৬০ নম্বর বাসার নিচতলা থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন।

আদালতকে ডিবি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট দেখান। কিন্তু তাঁর পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা যায়, এগুলোর জন্মতারিখে অমিল রয়েছে। তিনি এর আগে অনেকবার বাংলাদেশে এলেও সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি এবং একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিয়েছেন। ঢাকা শহরসহ সারা দেশে সাম্প্রতিক নাশকতার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা জানতেই এই রিমান্ড চাওয়া হয়।

রিমান্ড আবেদনের নথি থেকে জানা যায়, রবিউলের বাবার নাম শহীদুল ইসলাম, মায়ের নাম সালেহা খাতুন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গোঁড়ি ভোজ এলাকায়।

আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রবিউল বলেন, ‘আমি অনেকবার বাংলাদেশে এসেছি। এখানে প্রচুর আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব আছে। আমি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমি অপ্রয়োজনীয় ঝামেলায় পড়েছি। আমার কাছ থেকে কোনো কিছু পায়নি। আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, র–এর এজেন্ট কি না। তখন আমি বলি, না, এসবের সঙ্গে যুক্ত নই। আমি কোনো অপরাধ করিনি।’