আদালত চত্বরে হেলেনা
আদালত চত্বরে হেলেনা

সৌদিপ্রবাসীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার

আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিলেন হেলেনা

রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে সৌদিপ্রবাসী মোকাররম মিয়ার আট টুকরা লাশ উদ্ধারের মামলায় গ্রেপ্তার হেলেনা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক মিঠু আদালতে হেলেনাকে হাজির করে জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন হেলেনার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ছাড়া আরেক অভিযুক্ত হেলেনার কিশোরী মেয়েকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫–এর বিচারক মো. মনিরুজ্জামান।

মোকাররম মিয়ার (৩৮) বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহরে। ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে তিনি মুগদায় হেলেনার বাসায় যান। র‍্যাবের ভাষ্য, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে মোকাররম মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। রোববার মুগদার মান্ডা এলাকা থেকে তাঁর মরদেহের সাতটি টুকরা আর মানিকনগর এলাকা থেকে মাথাটি উদ্ধার হয়। পরে ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার মোকাররমের চাচা রফিকুল ইসলাম মুগদা থানায় মামলা করেন। এ মামলায় হেলেনা ও তাঁর মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত হেলেনা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা তা রেকর্ড করার আবেদন করেন। একই সঙ্গে তাঁর মেয়ে কিশোরী হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আবেদন করা হয়।

হত্যাকাণ্ড নিয়ে র‍্যাবের ভাষ্য

গতকাল সোমবার বিকেলে র‍্যাব-৩-এর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন স্কোয়াড্রন লিডার মো. সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, নিজ এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাসলিমা আক্তার নামের এক নারীর সঙ্গে মোকাররমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে এসে তিনি সরাসরি মুগদার মান্ডায় তাসলিমার বান্ধবী হেলেনা বেগমের ভাড়া বাসায় ওঠেন। ওই বাসায় হেলেনা তাঁর ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। মোকাররম ঢাকায় আসার খবর পেয়ে তাসলিমাও সেদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সেখানে যান।

ঘনিষ্ঠতার কারণে মোকাররম ও তাসলিমার মধ্যে আর্থিক লেনদেন হয় এবং আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে মোকাররম তাসলিমাকে বিয়ে করতে চাইলে তাসলিমা রাজি না হওয়ায় মোকাররম তাঁর দেওয়া পাঁচ লাখ টাকা ফেরত চান। একই সঙ্গে ছবি-ভিডিও প্রকাশের হুমকি দেন।

১৪ মে সকালে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মোকাররমকে অচেতন করার চেষ্টা করা হয়। পরে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে হাতুড়ি ও বঁটি দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে আট টুকরা করে পলিথিনে ভরে দুই জায়গায় ফেলা হয়। ঘটনার পরদিন পরিস্থিতি বোঝার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বাইরে ঘোরাফেরা করেন। সবকিছু স্বাভাবিক দেখাতে বাসার ছাদে আড্ডা ও খাবারের আয়োজনও করা হয়।

দুই দিন পর মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাথাবিহীন মরদেহের টুকরাগুলো উদ্ধার করে। ১৭ মে রাতে হেলেনা ও তাঁর মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোকাররমের মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়।

স্কোয়াড্রন লিডার মো. সাইদুর রহমান বলেন, হেলেনার অভিযোগ ছিল, মোকাররম তাঁর মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টাও করেছিলেন। এ পরিস্থিতিতে তাসলিমা ও হেলেনা মিলে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।