
মুদ্রা পাচার ও মানি লন্ডারিং মামলায় রিমান্ড শেষে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
চার দিনের রিমান্ড শেষে হরিদাসকে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক কে এম রাকিবুল হুদা। তিনি মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হয়।
ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে হরিদাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
হরিদাসকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় হরিদাসের কাছ থেকে তাঁর ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবগুলোতে কারা, কী কারণে অর্থ জমা দিয়েছেন এবং সেই অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় বা হস্তান্তর করা হয়েছে—এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন। জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এ ছাড়া চার দিনের রিমান্ড শেষে সিআইডি জানায়, হরিদাসের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানায়ও একটি মামলা আছে। ওই মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী শ্যামল কুমার বলেন, ‘আমরা আদালতে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলাম। আদালত নাচক করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।’ শুনানি শেষে আদালতের অনুমতি নিয়ে হরিদাস তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় তাঁকে আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়া হয়।
পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্রকে ১২ জুলাই রাতে নিজের এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরপর সিআইডির পক্ষ থেকে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় করা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়। পরদিন তাঁকে এ মামলায় চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা। অনুসন্ধানে তাঁর নামে থাকা নয়টি ব্যাংক হিসাবসহ বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে সিআইডি জানতে পারে, তাঁর হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবসাবহির্ভূত বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা দিয়েছেন।