ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত

‘স্ত্রীকে নির্যাতন করব না’—অঙ্গীকারনামা দিয়ে পিডিবির সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর ছেলের জামিন

‘স্ত্রীকে কোনো অত্যাচার, নির্যাতন করব না। সব সময় ভালো ব্যবহার করব’—আদালতে এমন লিখিত অঙ্গীকারনামা (মুচলেকা) দিয়ে জামিন পেয়েছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. হযরত আলীর ছেলে মুনতাসীর মামুন। একই মামলায় তাঁর মা নাজমা সুলতানারও জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আসামিপক্ষের দেওয়া অঙ্গীকারনামা গ্রহণ করে তাঁদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। বাদী ও বিবাদীপক্ষের আপসের শর্তে আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত এই জামিন দেওয়া হয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ ভৌমিক ও বাদীপক্ষের আইনজীবী জহুরুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ জামিন শুনানির সময় দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় বাদী আরাফাত ইরিন ঐশীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী রাজ্জাব হোসেন আপসের শর্তে জামিন চাইলে বাদীপক্ষ কিছু শর্ত সাপেক্ষে তাতে সম্মতি জানায়। সেই অনুযায়ী আসামি মুনতাসীর মামুন আদালতে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন।

অঙ্গীকারনামায় মুনতাসীর উল্লেখ করেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে কোনো অত্যাচার, নির্যাতন করব না। সব সময় ভালো ব্যবহার করব। বাসার অন্য কেউ যেন অত্যাচার, নির্যাতন করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকব। তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী স্থানে বসবাস করব, বাইরে ঘুরতে যাব এবং তাঁর শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি হয় এমন কাজ করব।’ এরপর আদালত বাদী ইরিন ঐশীর জিম্মায় আসামিদের জামিনের আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট যৌতুক দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মুনতাসীর মামুনের স্ত্রী আরাফাত ইরিন ঐশী ঢাকার আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এই মামলা করেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন পিডিবির অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. হযরত আলী ও মিজানুর রহমান।

মামলা দায়েরের দিনই আদালত নাজমা সুলতানা ও মুনতাসীর মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং অপর দুই আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরে ২ সেপ্টেম্বর রমনা থানা এলাকা থেকে নাজমা ও মুনতাসীরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং ৩ সেপ্টেম্বর তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। সমন পাওয়া অপর দুই আসামিকে আগামী ৪ অক্টোবরের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

মামলার অভিযোগ

মামলার আরজিতে বাদী অভিযোগ করেন, মুনতাসীর নতুন ব্যবসা শুরু করার কথা বলে তাঁর বাবার কাছ থেকে ১ কোটি টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তিনি জটিল ক্যানসারে আক্রান্ত জানার পরও তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। মেয়ের সংসারের কথা চিন্তা করে বাদীর বাবা আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করে চার কিস্তিতে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর ১ কোটি টাকা যৌতুক দেন।

এরপরও আসামিদের অর্থের চাহিদা কমেনি উল্লেখ করে মামলায় বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট রাত আটটার দিকে মুনতাসীর বাদীকে জানান, তাঁর বাবা হযরত আলীকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) অথবা পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান করার তদবির চলছে। এ জন্য ১০০ কোটি টাকা প্রয়োজন এবং এ কারণে তাঁর বাবার কাছ থেকে আরও ১৫ কোটি টাকা যৌতুক এনে দিতে হবে।

বাদী ওই টাকা দিতে অস্বীকার করলে শ্বশুর হযরত আলী তাঁর গলা চেপে ধরেন এবং স্বামী মুনতাসীর ও শাশুড়ি নাজমা সুলতানা তাঁকে মারধর করে মেঝেতে ফেলে দেন। এ ঘটনার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া বাদী গত ২৩ আগস্ট রাতে রমনা থানায় মামলা করতে গেলে থানা থেকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরদিন ২৪ আগস্ট তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বাদীর অভিযোগ, ২৫ আগস্ট রাতে মুনতাসীরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু শাকিল তাঁকে ফোনে জানান, তাঁর শ্বশুর শিগগিরই চেয়ারম্যান হচ্ছেন এবং তখন মুনতাসীর বিপুল অর্থ আয় করে নতুন বিয়ে করবেন। এই হুমকি ও নির্যাতনের মাধ্যমে আসামিরা তাঁকে বিভিন্ন সময় গুরুতর আঘাত ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।