
রাজধানীর আদাবর এলাকায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বিএনপি নেতা আবুল বাশার বাদশা নিহত হওয়ার ঘটনায় আরেক আসামি মনোয়ার হোসেন ওরফে লেদু হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। তারা জানায়, মনোয়ার এ হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত পারভেজকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব–২–এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান এসব তথ্য জানান।
এদিকে বিকেলে মনোয়ার হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।আজ বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালতে আসামি মনোয়ারকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান। আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ২ আগস্ট তারিখ ধার্য করে তাঁকে কারাগারে পাঠান।
আদাবর থানা বিএনপি সূত্র জানায়, মনোয়ার হোসেন আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে দুই দফা বহিষ্কার করা হয়। নবোদয় হাউজিং এলাকায় বিএনপি নেতা আবুল বাশার হত্যার পর এ ঘটনায় তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, ১ জুলাই আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষের একপর্যায়ে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মনোয়ার হোসেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামির আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানা গেছে, আবুল বাশার হত্যার জন্য মূল অভিযুক্ত পারভেজকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন মনোয়ার।
র্যাব জানায়, মনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, মাদকসহ মোট ৩২টি মামলা রয়েছে। তিনি ২০১০ সালের আলোচিত ওহিদুজ্জামান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। সে সময় তিনি গ্রেপ্তার হয়ে ২০১২ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন। এ ছাড়া ২০২১ সালে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলিসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একটি অস্ত্র মামলায় তাঁর ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।
র্যাবের ভাষ্য, মনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কিশোর গ্যাংকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ দিয়ে আসছিলেন।