
‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে কিছু হবে না’—এমন মন্তব্য করা অডিওর কণ্ঠস্বর ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলামেরই বলে নিশ্চিত হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
আদালতের অনুমতি নিয়ে ভয়েস পরীক্ষার মাধ্যমে অডিওটির কণ্ঠ শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম। আজ বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সাবেক ওসি রাকিবুলের অডিওর বিষয়টি আদালতের অনুমতি নিয়ে ভয়েস টেস্টের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। অডিওতে থাকা কণ্ঠটি তাঁরই ছিল। এ ঘটনার পেছনের সার্বিক বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি কার সঙ্গে কথা বলেছেন, কেন বলেছেন—সবকিছু আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসলে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।’
ভেজাল ওষুধসহ গ্রেপ্তার ৩
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ এবং ওষুধ তৈরির সরঞ্জামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আবদুল্লা আল-মামুন (৪২), মো. সাজু (৩৩) ও মো. সজীব (২৬)।
ডিবি ওয়ারী বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল মোহাম্মদপুর থানার ঢাকা উদ্যান রোডের ব্লক-সি এলাকার একটি ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের সিরাপ, ক্যাপসুল, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ, হাইজিন ওয়াশ, সাবান, পাউডার, ট্যাবলেটসহ বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ ও প্যাকেজিংসামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত তিনটি সিলিন্ডার, একটি ফুয়েল লাগানোর মেশিন, দুটি ক্যাপসুল ভরার মেশিন, ১০ কেজি ফুয়েল (পলিথিন), ছয়টি ক্যাপসুল ভরার যন্ত্রাংশ এবং দুটি লেবেল লাগানোর সাঁচ জব্দ করা হয়েছে।
ডিবি ওয়ারী বিভাগ জানায়, উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে শিশুদের জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি সিরাপ ও লিকুইড পণ্যও রয়েছে। ভেজাল ও অনুমোদনহীন এসব ওষুধ শিশুদের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
ভেজাল ওষুধ ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে।
ডিবি জানিয়েছে, এসব ভেজাল ওষুধের উৎস, প্রস্তুতকারক, সরবরাহকারী এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।