
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের সহযোগী মো. রুবেল আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামাল উদ্দিন মার্জিন জানান, আজ বেলা আড়াইটার দিকে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে বেলা সোয়া তিনটার দিকে বিচারক এজলাসে উঠেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা আসামি রুবেলের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রিমান্ডের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ শুনানি করে।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পরপর আসামি আত্মগোপনে চলে যান। বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি ও সোর্সের তথ্য অনুযায়ী সিআইডি ঢাকা ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় রুবেল আহমেদকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে ২১ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার পূর্বপরিকল্পনা ও ঘটনার পরে এজাহারনামীয় আসামিসহ অন্য আসামিদের আত্মগোপনে থাকতে সহযোগিতা করার তথ্য জানিয়েছেন। আসামি মো. রুবেল আহমেদ এজাহারনামীয় আসামি ফয়সাল করিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তাঁর নাম–ঠিকানা যাচাই–বাছাই চলছে। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের প্রয়োজন।
আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। এ সময় আদালত আসামি রুবেলের কাছে জানতে চান, তিনি কিছু বলতে চান কি না। জবাবে রুবেল দাবি করেন, তিনি খুনের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি বলেন, ‘আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ফয়সালের সঙ্গে তিন মাস আগে ট্রেড লাইসেন্স বিক্রির জন্য কথা হয়। ফয়সাল পলিটিক্যাল, আমি নন–পলিটিক্যাল। আমি চাকরি করি।’
পরে আদালত ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ সময় রুবেল আদালতকে বলেন, ‘আমি শতভাগ নির্দোষ। আমার পরিবার গ্রেপ্তারের কথা জানে না।’
পরে বিচারক পুলিশকে রুবেলের গ্রেপ্তারের বিষয়টি তাঁর পরিবারকে জানাতে বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শরিফ ওসমান বিন হাদি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাঁকে গুলি করা হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে শুরুতে তাঁর সার্জারি হয়। পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান তিনি। শরিফ ওসমান বিন হাদি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ছিলেন।
এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলাটি করেন। পরবর্তী সময়ে এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।
এ মামলায় ৬ জানুয়ারি মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর ২০ জানুয়ারি মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নারাজি দাখিল করেন। ওই দিন আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।