
ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ২ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। আর আহত, চিকিৎসাধীন প্রত্যেক শ্রমিককে চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে। শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গতকাল শনিবার এই আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন।
অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত কারখানাটি গতকাল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন আরিফুল হক চৌধুরী। পরিদর্শনকালে তিনি অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি তিনি গভীর শোক–সমবেদনা জানান।
কারখানা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন দগ্ধ শ্রমিকদের শয্যাপাশে কিছু সময় অতিবাহিত করেন। তাঁদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন তিনি।
আহত ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সহায়তায় বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিল থেকে নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ২ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। অন্যদিকে আহত ও চিকিৎসাধীন প্রত্যেক শ্রমিককে চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনসহ দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
কমিটিকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসককেও এ ঘটনার বিষয়ে পৃথক একটি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক শ্রমিকদের নিরাপত্তাসহ ভাগ্য উন্নয়নে সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কোনো শ্রমিকের জীবন যেন অবহেলার কারণে বিপন্ন না হয়, সে বিষয়ে তাঁরা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছেন।