জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন বিষয়ে নারী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের দাবি উপেক্ষা করে তফসিল ঘোষণায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। একই সঙ্গে সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী বাতিল করে নারী আসন ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য সরকার ও সব রাজনৈতিক দলের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে তারা।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংগঠনের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম এবং সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে অবিলম্বে এই তফসিল পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন, আসনসংখ্যা এক- তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী এলাকা পুনর্নির্ধারণ করার জন্য নারী আন্দোলনের যে দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, তা উপেক্ষা করে গতকাল সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী বাতিল না করে সেই একই নিয়মে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়নের মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
মহিলা পরিষদ বলছে, বাংলাদেশের নারী আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে জবাবদিহি ও সংসদে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনসহ নারী আসনব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই দাবি উপেক্ষা করে আবারও পরোক্ষ ও অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, যা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পথকে দুর্বল করে।
জাতীয় সংসদে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্যের উপস্থিতি নারীসমাজের স্বার্থ ও মানবাধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখবে এবং জনগণের কাছে তাদের দায়বদ্ধতা তৈরি করবে বলে মনে করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা যায় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের বিধান থাকায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যথাযথ নারী প্রতিনিধিত্ব হয়নি। নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকা না থাকায় এবং জনগণের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত না হওয়ায় জনগণ ও নারী প্রতিনিধিদের কাছে তাঁদের দায়বদ্ধতা থাকে না। এই কারণে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সরসরি নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে।’