অভিভাবক ডেকে চার কিশোরের চুল কেটে দিল পুলিশ

নারায়ণগঞ্জ জেলার মানচিত্র
নারায়ণগঞ্জ জেলার মানচিত্র

দুই অটোরিকশা সংঘর্ষের জেরে স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক হয় চার কিশোর। পরে তাদের পুলিশে দেওয়া হয়। এরপর অভিভাবকদের থানায় ডেকে তাঁদের মাধ্যমে কিশোরদের চুল কেটে ছোট করে দেওয়া হয়। পুলিশ বলছে, তাদের চুলের ছাঁট ছিল অদ্ভুত ধরনের। বুধবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ফতুল্লার পঞ্চবটি মোড়ে চার কিশোর ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশায় করে ঘুরতে বের হয়। তাদের একজন অটোরিকশাটি চালাচ্ছিল। এ সময় অপর একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে কিশোরদের বহনকারী অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে। পরে চার কিশোরের অভিভাবকদের থানায় ডাকা হয়। চার কিশোরের অপরাধ তুলে ধরে তাদের মাথার চুল কেটে দেওয়ার পরামর্শ দেয় পুলিশ। পরে অভিভাবকেরা থানার সামনে থাকা সেলুনে নিয়ে ওই চার কিশোরের চুল কাটান। পরে মুচলেকা দিয়ে অভিভাবকেরা কিশোরদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় লোকজন চার কিশোরকে আটক করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের থানায় নিয়ে আসে। ওই কিশোরদের মধ্যে একজন নবম শ্রেণিতে পড়ে। অপর তিনজন পোশাক কারখানায় চাকরিসহ বিভিন্ন কাজকর্ম করে। তাদের প্রত্যেকের মাথায় বড় বড় চুল ছিল।চুলের ছাঁট ছিল অস্বাভাবিক ধরনের।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রিজাউল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই চার কিশোরের চুলের কাটিং অদ্ভুত ধরনের ও বড় ছিল। পরে তাদের অভিভাবককে খবর দিয়ে থানায় ডেকে আনা হয়। তাঁরা তাঁদের সন্তানদের সেলুনে নিয়ে চুল কেটে দেন। মুচলেকা দিয়ে তাঁদের সন্তানদের থানা থেকে নিয়ে যান তাঁরা। ইভটিজিং, কিশোর অপরাধ ও বখাটেপনা রোধ করতে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।