ভারত থেকে ফিরে

অর্থাভাবে কোয়ারেন্টিনে থাকা খাওয়ার কষ্ট

বুধবার বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশে ফেরা পাসপোর্টধারী ১৪২ জন যাত্রীকে সাতক্ষীরায় আনা হয়েছে

অসুবিধার কথা তুলে ধরে কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গতকাল সাতক্ষীরা শহরে একটি আবাসিক হোটেলে
ছবি: প্রথম আলো

অসুস্থ স্বামী নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন নার্গিস আক্তার। গত বুধবার যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরেছেন। সেখান থেকে রাতে সাতক্ষীরায় পৌঁছেছেন। তাঁদের রাখা হয়েছে আল কাশেম নামের একটি আবাসিক হোটেলে। হাতে টাকা নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে একজন পাউরুটি ও পানি কিনে দিয়েছেন। সেটাই তাঁরা খেয়েছেন।

নার্গিস আক্তার চট্টগ্রামের গাবতলী এলাকার বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘কোনো রকমে বাড়িতে পৌঁছানোর মতো টাকা ছিল। ভারত থেকে পরীক্ষা করে করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়েছি। দুই দিন ধরে এক প্রকার না খেয়ে সময় পার করছি।’

বুধবার বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশে ফেরা পাসপোর্টধারী ১৪২ জন যাত্রীকে সাতক্ষীরায় আনা হয়েছে। তাঁদের শহরের চারটি আবাসিক হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। হোটেলগুলো হলো উত্তরা আবাসিক, টাইগার প্লাজা, হাসান আবাসিক ও হোটেল আল কাশেম।

এখানে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন চট্টগ্রামের মটরঘাট এলাকার মৃদুল দাস। তিনি বলেন, স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরেছেন। মৃদুল দাস বলেন, ‘টাকা নেই, খাব কী? হোটেলে থাকার ভাড়া কোথা থেকে দেব?’

চণ্ডীপুরের তাজউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি বলেন, তাঁর বাড়ি দিনাজপুরে। দিনাজপুরে কোয়ারেন্টিনে রাখলে এত কষ্ট হতো না। বাড়ির লোকজন সহযোগিতা করতে পারত। তাঁর কাছে টাকা নেই। ভারতে করোনাভাইরাস পরীক্ষায় নেগেটিভ হলেও তাঁদের মুক্তি মেলেনি।

সাতক্ষীরার নেজারত ডেপুটি কমিশনার (এনডিসি) আজাহার আলী বলেন, ভারত থেকে ফেরা ১৪২ জন বাংলাদেশিকে জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের খাওয়া ও থাকা নিজ খরচে করার কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে শুধু সমন্বয় করার কথা বলা হয়েছে। সেই অনুযায়ী থাকা ও খাওয়ার হোটেল ঠিক করে দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এর বাইরে প্রশাসনের কিছু করার নেই।

সাতক্ষীরা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুভাষ সরকার বলেন, বেশির ভাগ যাত্রী চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। অনেকের কাছে এক দিন চলার মতো টাকা নেই। অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সরকারি উদ্যোগে এই সমস্যার সমাধান করার দাবি জানান তিনি।