
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় গুরুতর আহত এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার সকলে মারা গেছেন। নিহত ব্যক্তির নাম আবদুল কাদির (৫৫)। তিনি উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়নের শ্রীপুরজীথর গ্রামের মো. মনির উদ্দিনের ছেলে। ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সপ্তম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতায় দুজন প্রাণ হারালেন।
এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি ঈশ্বরগঞ্জের বড়হিত ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের পাভেল মিয়া (২২) প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
থানা-পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুরজীথর গ্রামের আবদুল কাদির ছিলেন পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সমর্থক। কাদিরের প্রতিপক্ষরা আরেক পরাজিত প্রার্থী মো. মাহবুবের সমর্থক। নির্বাচনের দিন দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে ৯ ফেব্রুয়ারি গ্রামের শেখবাড়ির লোকজনের সঙ্গে মোশাররফের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
নিহত ব্যক্তির ছেলে মো. আশিক মিয়া বলেন, তাঁর বাবা আবদুল কাদির প্রতিপক্ষের দ্বারা আক্রান্ত হলে দাদা মনির উদ্দিন ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হন। এ ঘটনায় তাঁদের পরিবারের চারজন আহত হন। আহত চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কাদিরের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে কাদির মারা যান।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল কাদের মিয়া মুঠোফোনে বলেন, মারামারির ঘটনায় আবদুল কাদিরের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছিল। পুলিশ অভিযুক্ত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। কয়েকজন আদালত থেকে জামিন নিয়েছিলেন। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তি মারা যাওয়ায় এখন ওই মামলায় হত্যার অপরাধের ধারা সংযুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।