এগিয়ে আসেননি কেউ, করোনা উপসর্গে মৃত নারীকে গোসল করালেন ইউএনও

করোনার উপসর্গ নিয়ে চার দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন বগুড়ার সোনাতলার রিনা বেগম (৫৫)। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর স্বামী অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মোতালেব হোসেন (৬৫) করোনায় আক্রান্ত। স্বামী করোনা পজিটিভ হওয়ায় তিনিও করোনায় মারা গেছেন, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে কেউ রিনার লাশের গোসল করাতে এগিয়ে যাননি। খবর পেয়ে সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. সাদিয়া আফরিন ওই বাড়িতে গিয়ে লাশের গোসল করান।

সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের কুশাহাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সবাই ইউএনওর এমন উদ্যোগের প্রশংসা করছেন।

রিনা বেগমের ভাশুরের ছেলে নূর হাসান সিদ্দিকী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর চাচা মোতালেব সপ্তাহ দুয়েক আগে থেকে করোনায় আক্রান্ত। নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ শনাক্তের পর থেকে বাড়িতেই আইসোলেশনে আছেন তিনি। চাচি রিনা বেগম চার দিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। গতকাল হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। রাত ১১টার দিকে তাঁর লাশ কুশাহাটা গ্রামে আনা হয়। কিন্তু স্বামী করোনা পজিটিভ হওয়ায় স্ত্রীও করোনা পজিটিভ, এমন শঙ্কায় গোটা গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লাশের গোসল ও দাফনের কাজের জন্য কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না।

নূর হাসান আরও বলেন, মোতালেব–রিনা দম্পতির একমাত্র ছেলে ও ছেলের বউ তাইওয়ানে থাকেন। আর মেয়ে অসুস্থ। এ অবস্থায় লাশের গোসল করানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে খবর পেয়ে ইউএনও এসে গোসল করান। পরে রাত দেড়টার দিকে তাঁর চাচির দাফন সম্পন্ন হয়।

জোড়গাছা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, কুশাহাটা গ্রামে প্রায় ৬০০ মানুষের বসবাস। শিক্ষিত লোকজনও আছেন অনেক। কিন্তু করোনায় আক্রান্ত হয়ে রিনা বেগম মারা গেছেন, এমন শঙ্কায় দাফন–কাফনের জন্য কাউকে মেলেনি।

জোড়গাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুস্তম আলী প্রথম আলোকে বলেন, লাশের গোসল শেষে একজন ইমাম ডেকে জানাজা পড়ানো হয়। তিনি, থানার ওসি রেজাউল করিমসহ ১২-১৩ জন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সোনাতলার ইউএনও মোছা. সাদিয়া আফরিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনায় মারা যাওয়া একজন নারীর লাশ দাফনে কেউ এগিয়ে আসছেন না জানতে পেরে নিজেই ওই বাড়িতে যাই। রিনা বেগমের হাসপাতালের কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখি, সেখানে চিকিৎসকেরা মৃত্যুর কারণ কোভিড-১৯ সাসপেকটেড উল্লেখ করেছেন। লাশের গোসল করানোর জন্য কেউ এগিয়ে না আসায় নিজেই এগিয়ে যাই। মানবিক দায়িত্ব থেকেই এ কাজ করেছি।’