মণ্ডপে সরেজমিন

ঐতিহ্যের রাজবাটিতে পূজা মেলা আর স্মৃতিচারণা

প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি মন্দিরে গিয়ে ছবি তোলায় ব্যস্ত দর্শনার্থীরা। গতকাল দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী রাজবাটীতে
ছবি: প্রথম আলো

চলছে চণ্ডীপাঠ, বাজছে ঢাক, কাঁসর। মন্ত্রপাঠের সঙ্গে দেবী দুর্গার পায়ে অঞ্জলি দিচ্ছেন ভক্তরা, প্রসাদ নিয়ে আবার দেবীকে প্রণাম করে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে।

প্রায় আড়াই শ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে প্রতিবছর দিনাজপুরের রাজবাটিতে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। যদিও ধারণা করা হয়, ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দের শেষে দিনাজপুরের জমিদার প্রথম দুর্গাপূজা করেন। তবে ঐতিহাসিকভাবে এর কোনো দলিল নেই। ১৭৭২ সালে দিনাজপুরের রাজা প্রাণনাথ নির্মাণ করেন কান্তজিউ মন্দির। এর আলোকে রাজবাটি উদ্‌যাপন কমিটি বলছে, এবার নিয়ে পূজার আয়োজন ২৬৯ বছরে পদার্পণ করল।

দিনাজপুরের রাজবাটি প্রায় ধ্বংসের পথে থাকলেও দুর্গামন্দিরের বৈভবে চোখ জুড়িয়ে যায়। দোতলার সমান উচ্চতায় দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে সুবিস্তৃত দুর্গামন্দির। মন্দিরের চারপাশের সাদা-হলুদ দেয়ালে নকশাখচিত সবুজ রঙের ফুল। মন্দিরের বাইরে মাঠের মধ্যে টানানো হয়েছে বিশালাকার শামিয়ানা। মন্দিরের ভেতরে সিংহের পিঠে দুর্গা, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক। এর ওপরে রাখা হয়েছে শিবকে।

গতকাল মঙ্গলবার সপ্তমীর দিনে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শঙ্খধ্বনি শেষে প্রধান পুরোহিত পুলিন ভট্টাচার্য রাজবাটির পাশে শুকসাগরে মঙ্গলঘটে জল ভরে নিয়ে আসেন। মন্দিরে প্রতিমার সামনে মাটি ও কাঁসার বিভিন্ন ঘটে সাজানো হয়েছে ১০৮টি পদ্ম, নারকেল, তিল, ঘি, চন্দন, বেলপাতা, দূর্বাসহ বিভিন্ন উপকরণ।

পূজা উপলক্ষে রাজবাটির প্রধান ফটকের পাশে বসেছে মেলা। দোকানে দেখা মেলে পূজার নানা উপকরণ, কুটির-তাঁতশিল্প ও ছোটদের খেলনা। রয়েছে জিলাপি, মুড়কি, পাঁপড় ভাজাসহ হরেক রকমের মুখরোচক খাবার।

পূজার ঐতিহ্য ধরে রাখা গেলেও আয়োজনে জাঁকজমক নেই বলে মন্তব্য করেন কয়েকজন প্রবীণ। আলাপচারিতায় তাঁরা বলেন, একটা সময় ছিল পূজা উপলক্ষে কীর্তনের আসর হতো। আলোকসজ্জা হতো রানিমহল, হীরামহল, আয়নামহলে। সার্কাস পার্টি, নাগরদোলা, হই-হুল্লোড়ের সেই সব দিন আর নেই।

দিনাজপুর রাজ দেবোত্তর কমিটির এজেন্ট রনজিত কুমার সিংহ বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে গত বছর দেবী দুর্গাকে ভোগ দেওয়া থেকে শুরু করে প্রতিটি আয়োজন ছিল সীমিত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এরপরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজার মণ্ডপে আসার জন্য ভক্তদের আহ্বান জানানো হয়েছে।