কক্সবাজারে বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

বন্দুকযুদ্ধ
প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে মাদক কারবারিদের সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনায় দুজন নিহত হন। উখিয়ায় নিহত ব্যক্তির নাম মো. শাজাহান (২৭)। তবে টেকনাফে নিহত ব্যক্তির নাম–পরিচয় জানা যায়নি।

বিজিবির দাবি, উখিয়ায় নিহত শাজাহান মাদক ও অস্ত্র কারবারি। তিনি উখিয়া উপজেলার ৪ নম্বর রাজাপালং ইউনিয়নের ডেইলপাড়ার বাসিন্দা সৈয়দ নুরের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে কক্সবাজারের বিভিন্ন থানায় ১০টির বেশি মাদক, অস্ত্র ও ডাকাতির মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৫০ হাজার ইয়াবা ও দেশি একটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বিজিবির একজন সদস্য আহত হন।

কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ বলেন, গতকাল শনিবার রাত তিনটার দিকে উখিয়া উপজেলার ৪ নম্বর রাজাপালং ইউনিয়নের তুলাতলির জলিলের গোদা সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে পাচারের তথ্য পেয়ে বিজিবির সদস্যরা ওই এলাকায় টহল জোরদার করেন। মিয়ানমার থেকে চোরাকারবারি দল বাংলাদেশে ঢুকে পাহাড়ি ছড়া দিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের থামার সংকেত দেন। এ সময় বিজিবির সদস্যদের লক্ষ্য করে মাদক কারবারিরা গুলি চালায়। বিজিবির সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশটি শাজাহানের বলে শনাক্ত হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় উখিয়া থানায় মামলা হবে।

এদিকে গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়ার নাফ নদীসংলগ্ন এলাকায় বিজিবির সঙ্গে আরেকটি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। বিজিবির দাবি, ঘটনাস্থল থেকে ৩ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা, দেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি ধারালো কিরিচ উদ্ধার করা হয়।

টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়সল হাসান খান বলেন, দমদমিয়ায় বিজিবির টহল দল দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় নাফ নদীর বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকায় সন্দেহভাজন একজনকে দেখতে পেয়ে থামার সংকেত দিলে বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। বিজিবিও পাল্টা গুলি ছোড়ে। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তির লাশ, ৩ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা, একটি দেশি বন্দুক ও একটি ধারালো কিরিচ উদ্ধার করা হয়।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. আইয়ুব হোসেন বলেন, আজ রোববার ভোররাতের দিকে বিজিবির সদস্যরা গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে ছয়টি গুলির চিহ্ন দেখা গেছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।