
গাজীপুরে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছেন দুই যুবক। গতকাল মঙ্গলবার গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তাঁরা। দুজনের জবানবন্দির বরাত দিয়ে আজ বুধবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
ওই দুই যুবক হলেন মো. সাঈদ ইসলাম (১৯) ও মো. রনি মিয়া (২১)। সাঈদের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার থানার চিলাহাটি মাস্টারপাড়া এলাকায়। আর রনির বাড়ি নীলফামারীর জেলা সদরের তিস্তা চৌরাটারি এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুর থানা এলাকায় ভাড়া বাসায় মায়ের সঙ্গে থাকত ওই কিশোরী। একই বাসার পাশের কক্ষে ভাড়া থাকতেন রনি। আর পাশের বাড়িতে ভাড়া থাকেন রনির বন্ধু মিলন, হাসান ও সাঈদ। রনিদের বাসায় তিন বেলা টাকার বিনিময়ে খাবার খেতেন মিলন, হাসান ও সাঈদ। ওই কিশোরীর সঙ্গে মিলনের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। ওই কিশোরীকে পছন্দ করতেন মিলনের বন্ধু রনি ও সাঈদ। তাঁরা বিভিন্ন সময় কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দিতেন ও উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করতেন। গত বছরের ৩১ অক্টোবর সকাল ৯টার পর সাঈদ নাশতা খেতে রনির বাসায় যান। পরে সাঈদ ও রনি মিলে কিশোরীর বাসা যান। এ সময় বাসায় কিশোরী একাই ছিল। এ ফাঁকে কিশোরীকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করেন সাঈদ ও রনি। ঘটনাটি জানাজানির আশঙ্কায় দুজনে মিলে বালিশ চাপা দিয়ে কিশোরীকে হত্যা করে সটকে পড়েন। পরে কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
গাজীপুরের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ কাওছার উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় গত বছরের ৩১ অক্টোবর কাশিমপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়। পরে ময়নাতদন্তে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার আলামত পান চিকিৎসক। এ ঘটনায় ৩ জুলাই পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করে। চলতি মাসের ১৩ জুলাই অভিযুক্ত সাঈদ ইসলাম ও রনি মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।