
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের লাইন দেখা গেছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাবিবুর রহমান নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অন্তত ১০টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভোট নিয়ে উৎসাহ উদ্দীপনা কম থাকলেও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রে উপস্থিতি ব্যাপক। কোনো কেন্দ্রেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বাইরে অন্য কোনো দলের পোলিং এজেন্ট বা দলীয় কর্মী-সমর্থকদের দেখা যায়নি। এমনকি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বাইরে অন্য কারওর পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনও নেই।
সকাল সাড়ে ৯টায় চাঁদড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুরুষদের চেয়ে নারীদের উপস্থিতি বেশি ছিল। লাইনে দাঁড়ানো কুলসুম বেগম বলেন, ‘চেয়ারম্যান আমাদের নিয়ে এসেছেন। আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে চাই’।
সাতবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তবে সেখানে সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রেজাউল করিম দাবি করেন, কেন্দ্রের মোট ২ হাজার ৯৩৩টি ভোটের মধ্যে প্রথম ঘণ্টায় ৩১৭টি ভোট পড়েছে।
কেশবপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘কেশবপুরে এখন অনেক বহিরাগত লোক অবস্থান করছে। নির্বাচন করতে গিয়ে আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি। এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। কিন্তু আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী দেওয়া হয়েছে। ফায়ার ব্রিগেডের গাড়িও দেওয়া হয়েছে।
ভোটের ফলাফল পাল্টে ফেলার শঙ্কা প্রকাশ করে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাকে নির্বাচন কমিশন থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে ভোটের পরের দিন ফলাফল ঘোষণা করা হবে। আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। কিন্তু একদিন পরে ফলাফল ঘোষণা করার সিদ্ধান্তে আমি শঙ্কিত যে ফলাফল পাল্টে ফেলা হতে পারে।’
এ ব্যাপারে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ফলাফল পাল্টে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। কেন্দ্রর ফলাফল কেন্দ্রই ঘোষণা দেওয়া হবে। ৭৯টি কেন্দ্রের সমন্বিত ফলাফল পরের দিন ঘোষণা দেওয়া হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হচ্ছে।
কেশবপুরের সাংসদ ও সাবেক জন প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক গত ২১ জানুয়ারি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করায় উপ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার ও জাতীয় পার্টি (এরশাদ) মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান। বিএনপির প্রার্থী কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল হোসেন আজাদ বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় এখন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।
উপ নির্বাচনে মোট ভোটার ২ লাখ ৩ হাজার ১৮ জন।