কোরবানির জন্য কুমিল্লার মেয়র কিনলেন ‘গয়াল’

‘বড় মিঞা’, ‘ছোট মিঞা’কে একনজর দেখতে অনেকেই ভিড় করছেন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের মাঝিগাছা ফাতেমা অ্যাগ্রো ফার্মে।
 ছবি: প্রথম আলো

পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি বনে দেখা মেলে গয়ালের। শখের বশে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার মাঝিগাছা এলাকার ফাতেমা অ্যাগ্রো ফার্ম বান্দরবান থেকে ছয় মাস আগে দুটি গয়াল আনে। একটির নাম ‘বড় মিঞা’, আরেকটির নাম ‘ছোট মিঞা’। এর মধ্যে ‘বড় মিঞা’কে কিনলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক (সাক্কু)।

২১ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে এই গয়াল কোরবানি করা হবে। ‘বড় মিঞার’ ওজন ১২ মণ। দাম পড়েছে ছয় লাখ টাকা।

জানতে চাইলে মেয়র মো. মনিরুল হক বলেন, ‘গয়ালের মাংসে কোনো ধরনের চর্বি থাকে না। এবার তাই গয়াল কোরবানি দিচ্ছি।’

জানা গেছে, কুমিল্লার আইনজীবী মো. কাইমুল হকের (রিংকু) বড় ছেলে সাকিউল হক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে করোনাকালে বাসায় বসে ছিলেন। বাবার কাছে বায়না ধরে আট মাস আগে সাকিউল মাঝিগাছা এলাকায় গড়ে তোলেন ফাতেমা অ্যাগ্রো। প্রথমে ফার্মে ষাঁড় গরু তোলা হয়। পরে অনলাইনে গয়াল সম্পর্কে ধারণা নেন। এরপর বান্দরবান এলাকা থেকে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা (গাড়ি ভাড়াসহ) দিয়ে দুটি গয়াল কেনেন। গয়াল দুটি আনার পর প্রথমে কিছু খেতে চাইত না। পরে তাদের ঘাস, খড় ও কলাপাতা খাওয়ানোতে অভ্যস্ত করা হয়। এখন তারা সবই খাচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ওই ফার্মে গিয়ে দেখা গেছে, গয়াল দুটি পাশাপাশি দুটি গাছের সঙ্গে বাঁধা। তারা ঘাস খাচ্ছে। দূর থেকে দর্শনার্থীরা গয়াল দুটি দেখছেন। গয়ালের হাঁটুর নিচের অংশ সাদা। পুরো শরীর কালো বর্ণের। খাড়া দুটি শিং। আবার কোনোটি পুরোপুরি সাদা বর্ণের। পুরো শরীর মাংসে ভরা।

গয়ালকে কেউ কেউ ইয়াক বা চমড়ি গাইও বলে। বান্দরবানের পাহাড়িরা গয়ালকে কেউ কেউ পোষ মানান। সকালে গয়ালকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সারা দিন বনবাঁদাড়ে নানা ধরনের তৃণ, লতা ও গুল্মজাতীয় খাবার খেয়ে মালিকের বাড়িতে চলে আসে। চীনসহ সার্কভুক্ত দেশে গয়ালের দেখা মেলে।

ফাতেমা অ্যাগ্রো ফার্মের দেখভাল করেন সাকিউল হক। তিনি বলেন, ‘দুটি গয়ালের মধ্যে বড় মিঞা বিক্রি হয়েছে। ছোট মিঞার দাম উঠেছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। ছোটটির ওজন ৬ থেকে ৭ মণের মতো হবে। প্রতিবছর আমার বাপ–চাচাদের পরিবারে অনেক ষাঁড় কোরবানির জন্য লাগে। তাই করোনাকালে নিজেই ফার্ম করার উদ্যোগ নিই।’

আইনজীবী মো. কাইমুল হক বলেন, ‘আগামীতেও গয়াল এনে পালন করব। এবার পরীক্ষামূলক চালালাম। লাভও হবে। আমাদের ফার্মে বর্তমানে ২৩টি গরু ও ২টি গয়াল আছে। কুমিল্লা অঞ্চলে সম্ভবত গয়াল এনে আমরাই প্রথম পালন করছি।’