ক্ষেতলালে উপজেলা আ.লীগের সভাপতির মোটরসাইকেল বহরে হামলার অভিযোগ

হামলা–সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাঠিপেটা করে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আজ দুপুরে ক্ষেতলালের ইটাখোলা বাজারে
ছবি: প্রথম আলো

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনোয়ারুজ্জামান তালুকদারের মোটরসাইকেল বহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। আজ শনিবার বেলা দেড়টার দিকে ক্ষেতলালের ইটাখোলা বাজারে হামলার এ ঘটনা ঘটে।

আনোয়ারুজ্জামান তালুকদারের দাবি, ক্ষেতলাল পৌরসভার প্যানেল মেয়র জুলফিকার আলী চৌধুরীর ছেলে খুশি চৌধুরী এ হামলার নেতৃত্বে ছিলেন। তবে জুলফিকার আলী চৌধুরী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

দলীয় নেতা-কর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি ও কটূক্তির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্ষেতলাল উপজেলা আওয়ামী লীগ আজ বেলা ১১টার দিকে পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। নির্ধারিত সময়ে দলটির নেতা-কর্মীরা ব্যানার নিয়ে থানা মোড়ের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিলের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় সেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি তাইফুল ইসলাম তালুকদার এসে বিক্ষোভ মিছিলের ব্যানারের সামনে প্যানেল মেয়র জুলফিকার আলী চৌধুরীকে দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে ‘রাজাকারপুত্র’ অ্যাখা দিয়ে ব্যানার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে সেখানে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

এরপর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুজ্জামানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়। সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। সমাবেশে আনোয়ারুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘ক্ষেতলাল উপজেলা আওয়ামী লীগ কারও প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চলবে না। দলীয় নিয়মনীতির বাইরে কাউকে কিছু করতে দেওয়া হবে না। ক্ষেতলাল আওয়ামী লীগকে জামায়াত-বিএনপি ও রাজাকারের পরিবারের লোকজনমুক্ত করব।’

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুর রহমান

সমাবেশ শেষে আনোয়ারুজ্জামান তালুকদার মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। তাঁর বহরের পেছনে মামুদপুর ইউনিয়নের দলীয় নেতা-কর্মীরাও যাচ্ছিলেন। বহরটি ইটাখোলা বাজারে পৌঁছালে সেখানে লাঠিসোঁটা নিয়ে ৪০-৫০ জনের একটি দল মোটরসাইকেল বহরে হামলা চালায়। হামলায় বহরে থাকা বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাঠিপেটা করে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

আনোয়ারুজ্জামান তালকুদার অভিযোগ করে বলেন, ‘এলাকার একজন চিহ্নিত রাজাকারপুত্র জুলফিকার আলী সেই বিক্ষোভ মিছিলের ব্যানারের সামনে ছিলেন। এ কারণে আমার চাচা তাইফুল ইসলাম তালুকদার রেগে গিয়েছিলেন। আমরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে বাড়িতে ফিরছিলাম। ক্ষেতলালের ইটাখোলা বাজারে পৌঁছানোর পর জুলফিকার আলীর ছেলে খুশি চৌধুরীর নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে আমার ২০-২২ জন কর্মী-সমর্থক আহত হন। চারটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মৌখিক অভিযোগ করেছি। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।’

তবে অভিযোগের বিষয়ে জুলফিকার আলী চৌধুরী বলেন, ‘আমার পরিবারের কেউ রাজাকার ছিল না। আমি ক্ষেতলাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও ক্ষেতলাল পৌরসভার প্যানেল মেয়র। তাইফুল ইসলাম তালুকদার বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তাঁর ভাতিজা আনোয়ারুজ্জামান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার পর থেকে তাইফুল ইসলাম দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন। আমার ছেলে কারও ওপর হামলা করেনি। আনোয়ারুজ্জামানন তালুকদার ইটাখোলা বাজারে একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় ব্যবসায়ীরা তাঁকে ধাওয়া দিয়েছেন।’

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রওশন ইয়াজদানী প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেননি।