
করোনাভাইরাসের টিকার জন্য কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় একটি ইউনিয়নে বিনা মূল্যে নিবন্ধনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রাজাখালী উন্মুক্ত পাঠাগার ও সামাজিক বিপ্লব নামের দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা এই কার্যক্রম চালাচ্ছেন। গত শনিবার সকাল থেকে টিকার জন্য বিনা মূল্যে এই নিবন্ধনের কার্যক্রম শুরু হয়।
আজ সোমবার বেলা দুইটায় সরেজমিনে দেখা যায়, রাজাখালী ইউনিয়নের সিকদারপাড়া রাস্তার মাথায় একদল তরুণ চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে করোনাভাইরাসের টিকার জন্য নিবন্ধন করে দিচ্ছেন। ২৫ বছরের ঊর্ধ্বে ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে কেউ এলে নিবন্ধন করে দিচ্ছেন তাঁরা। এই তরুণেরা বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাঁদের পেছনে বড় একটি ব্যানার টাঙানো হয়েছে। তাতে লেখা ‘বিনা মূল্যে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিবন্ধন কার্যক্রম’।
সিকদারপাড়া এলাকার কলিম উল্লাহ (৩৮) টিকার জন্য নিবন্ধনের পর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার অ্যান্ড্রয়েড ফোন নেই। একটি দোকানে নিবন্ধনের জন্য গিয়েছিলাম। তাঁরা দুই শ টাকা চেয়েছে। এ জন্য নিবন্ধন না করে চলে এসেছি। এখন এলাকার ছেলেরা বিনা মূল্যে নিবন্ধন করে দিয়েছে।’
স্বেচ্ছাসেবীদের নিবন্ধন কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব মো. আল আমিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তরুণদের এ উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়। এখন করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে গ্রামাঞ্চলের মানুষ সহজে নিবন্ধন করতে পারছেন। তরুণেরা নিবন্ধন করার পর ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারে পাঠিয়ে দেন। সেখান থেকে নিবন্ধনের কার্ড প্রিন্ট করে দেওয়া হচ্ছে।
রাজাখালীর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সামাজিক বিপ্লবের সদস্যসচিব ও রাজাখালী উন্মুক্ত পাঠাগার পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে সরকার টিকাদান কার্যক্রম গ্রামাঞ্চলেও বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু টিকার জন্য নিবন্ধনের বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে জটিল এক বিষয়। শুধু নিবন্ধন করতে না পারার কারণে অনেকে টিকার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষকে টিকার জন্য বিনা মূল্যে নিবন্ধন করিয়ে দেওয়ার কাজ হাতে নিয়েছে সামাজিক বিপ্লব ও রাজাখালী উন্মুক্ত পাঠাগার।
গত শনিবার এই নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। ওই দিন রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কার্যালয়ে মানুষজনকে টিকার নিবন্ধন করে দেওয়া হয়। গতকাল রোববার ও আজ সিকদারপাড়া রাস্তার মাথায় টিকার নিবন্ধন কার্যক্রম চালানো হয়। শনিবার ও গতকাল—এই দুই দিনে ৩০৪ জনকে নিবন্ধন করা হয়। আজ বেলা তিনটা পর্যন্ত আরও ৩৫ জনের নিবন্ধন করা হয়। বেশির ভাগ মানুষ টিকার আওতায় না আসা পর্যন্ত তাঁদের এই নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে।
স্বেচ্ছাসেবী তৌহিদুর রহমান জিদান বলেন, ‘টিকা নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা আছে। শুধু নিবন্ধন কার্যক্রম নয়, তাঁদের সচেতনতার কাজও করছি আমরা। টিকা নিতে মানুষজনকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। প্রতিদিন ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক এই কার্যক্রমে যুক্ত থাকছেন।’
সামাজিক বিপ্লবের সদস্য রাকিব আল হাসান বলেন, যে কেউ জাতীয় পরিচয়পত্র ও একটি মুঠোফোন সঙ্গে নিয়ে এলেই তাঁরা নিবন্ধন করে দিতে পারছেন। এই পর্যন্ত ৩৪০ জনকে নিবন্ধনের পর তাঁরা কার্ড দিতে পেরেছেন। টিকার নিবন্ধন নিতে ও টিকা গ্রহণের জন্য কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিদিন ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।