
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার প্রধান নদী মাতামুহুরীতে আবারও কীটনাশক প্রয়োগ করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নদীতে মরা মাছ ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয় লোকজন ও জেলেরা বিষয়টি জানতে পারেন। মূলত চিংড়ি মাছ ধরার জন্য গত সোমবার রাতে এসব কীটনাশক প্রয়োগ হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ মাছ শিকারের জন্য মাতামুহুরী নদীতে কীটনাশক দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর আরও একবার নদীতে কীটনাশক প্রয়োগ করে দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় লোকজন বলেন, দুর্বৃত্তরা মাতামুহুরী নদীর লামার ইয়াংছা খালের মুখ, চকরিয়ার মাঝেরফাঁড়ি সেতু, ঘুনিয়ারকুম ও মাতামুহুরী সেতু এলাকায় রাতে ভাটার সময় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। এরপর রাতেই দুর্বৃত্তরা নদীতে জাল ফেলে চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ শিকার করে। ভোর পর্যন্ত চলে তাঁদের মাছ শিকার। সকালে খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনও হুমড়ি খেয়ে পড়ে এসব চিংড়ি ধরতে।
গতকাল বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, মাতামুহুরী সেতুসংলগ্ন এলাকায় নদীতে চিংড়ি শিকার করছেন জেলেরা। এ সময় মরা অন্য মাছও ভাসতে দেখা যায়। এসব মাছের মধ্যে রয়েছে বাটা, টেংরা ও ছোট বোয়াল।
কক্সবাজার জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আশরাফ আলী বলেন, নদীর মাতামুহুরী সেতু থেকে বেতুয়া বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে মরা মাছ শিকার করছে লোকজন। এভাবে বিষ প্রয়োগের ফলে নদীতে মাছ কমে যাচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা।
নদীতে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি অবগত আছেন মৎস্য অধিদপ্তরের চকরিয়া উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চিংড়ি শিকারের জন্য ‘সাইফারমেথ্রিন’ নামক কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা চিংড়ি মাছ ধরার জন্য বিষটি ব্যবহার করে। তবে অন্য মাছের জন্যও এটি ক্ষতিকারক। বিষ প্রয়োগের ফলে নদীর জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর নদীতে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের অনেকবার বলার পরও তাঁরা কাউকে চিহ্নিত করতে পারেন না। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আরও সচেতন হয়ে দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দের অনুরোধ করেন।