
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর এলাকার পৃথক দুটি স্থানে দুজন বৃদ্ধের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরের দিকে দর্শনা থানা-পুলিশ আধা ঘণ্টার ব্যবধানে রামনগর ও পরানপুর গ্রামের পৃথক দুই ভুট্টাখেত থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে।
মারা যাওয়া দুজনই পেশায় কৃষক। তাঁরা হলেন পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের সড়াবাড়িয়া গ্রামের শওকত হোসেন ওরফে ছকো (৬৫) এবং দর্শনা পৌর এলাকার পরানপুর গ্রামের হাফিজুর রহমান (৫৫)।
পুলিশ জানায়, শওকতের লাশের পাশে কীটনাশকের বোতল এবং হাফিজুরের কপালে কাঁচির ক্ষত আছে। তাঁদের মৃত্যুরহস্য উন্মোচনে দুজনেরই লাশ উদ্ধার করে দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুল কবীর জানান, এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে আজ সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে দর্শনা পৌর এলাকার রামনগর গ্রামের একটি ভুট্টাখেত থেকে শওকত হোসেন ও দুপুর সোয়া ১২টায় পরানপুর গ্রামের ভুট্টাখেত হাফিজুর রহমানের লাশ উদ্ধার করা হয়। শওকত হোসেনের লাশের পাশে কীটনাশকের বোতল পড়ে ছিল। এ ছাড়া হাফিজুর রহমানের লাশ উবু হয়ে পড়ে ছিল। তাঁর লাশের পাশে ধারালো কাঁচি (ঘাস কাটার যন্ত্র) ছিল। তাঁর কপালে কাঁচির ক্ষতচিহ্ন ছিল।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে ওসি লুৎফুল কবীর জানান, শওকত হোসেন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নানা কারণে প্রায়ই ঝামেলা হতো। গত শনিবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাগারাগি করে বাড়ি থেকে বের হন কৃষক শওকত হোসেন। এরপর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন। আজ সোমবার রামনগর গ্রামের কয়েক কৃষক গ্রামের মাঠে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা লাশটি শনাক্ত করেন।
প্রতিবেশীরা জানান, রোববার সকাল থেকে শারীরিকভাবে অসুস্থতা বোধ করছিলেন পরানপুরের হাফিজুর। বিকেলে গৃহপালিত পশুর জন্য ঘাস কাটতে বাড়ি থেকে বের হন এবং গ্রামের মাঠে যান। সন্ধ্যায় বাড়িতে না ফেরায় শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। অবশেষে আজ সোমবার তাঁর লাশের সন্ধান মেলে।