
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস বাসস্ট্যান্ড উড়ালসেতুতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা সদরের বাওয়ার রোড এলাকার বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৩) ও উপজেলার ভাওড়া গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে ইয়াছিন হোসেন ওরফে কানন (২১)।
শহিদুল ইসলাম ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। আর ইয়াছিন টাঙ্গাইলের হাজী আবুল হোসেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ইয়াছিন তাঁর মা–বাবার সঙ্গে বাওয়ার রোডে (বাওয়ার কুমারজানী রোড) ভাড়া বাসায় থাকতেন। বয়সে ছোট হলেও শহিদুলের সঙ্গে তাঁর সখ্য ছিল। আজ সকালে শহিদুলের মোটরসাইকেলে চড়েই দুজন টাঙ্গাইলে যাচ্ছিলেন। সাড়ে ৯টার দিকে তাঁরা মির্জাপুর বাইপাস বাসস্ট্যান্ড উড়ালসেতুতে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইয়াছিন মারা যান। আর শহিদুলকে হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ইয়াছিনের প্রতিবেশীরা জানান, ইয়াছিন তাঁর মা–বাবার বড় ছেলে। তাঁর ছোট ভাই স্মরণ প্রায় ছয় বছর আগে পানিতে ডুবে মারা যান। ইয়াছিনের মৃত্যুর পর দুই সন্তানহারা মা–বাবা শোকে পাথর হয়ে গেছেন।
এদিকে শহিদুলের তিন বোন আছে। তাঁর বাবা আবু বক্কর সিদ্দিকী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘কিছুদিন আগে শহিদকে বলছিলাম, আমি মরলে তুই জানাজা পড়াবি না? এই কথা শুনে ও (শহিদুল) জানাজার নামাজ পড়া শিখেছিল। কিন্তু আমার সেই ভাগ্য হলো না। আমার আগেই ও মরল।’
আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে তাঁদের দুজনের লাশ নিজ নিজ বাসায় নেওয়া হয়। কিছু সময় আগে-পরে শহিদুল ও ইয়াছিনকে গোসল করানো হয়।
বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা একরাম ফারুক বলেন, একই দিন একই জায়গায় দুজনের মরদেহ গোসল করানো হয়েছে। এটি বাস্তবতা হলেও বিষয়টি মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর।
মির্জাপুরের গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল হক বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। পলাতক চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মির্জাপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজের পর নিহত ব্যক্তিদের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে। জানাজা শেষে শহিদুলকে পৌর কবরস্থানে আর ইয়াছিনকে ভাওড়া গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে পারিবারিকভাবে জানা গেছে।