
জামায়াতে ইসলামীর শতাধিক বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে তাঁদের জঙ্গিবাদ শেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির।
আজ শনিবার বিকেলে রাজশাহীতে ‘রোহিঙ্গা সংকট ও বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। নগরের শাহ মখদুম কলেজ মিলনায়তনে সংগঠনটির জেলা ও মহানগর শাখা এ সভার আয়োজন করে।
শাহরিয়ার কবির বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জামায়াতের শতাধিক এনজিও রোহিঙ্গাদের জঙ্গিবাদ শেখাচ্ছে। তাদের জিহাদ শেখানো হচ্ছে। তারা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের একটি অংশ দখল করে স্বাধীন মুসলিম দেশ প্রতিষ্ঠার নীলনকশা করছে।
ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্কুল করতে চাইলাম। এনজিওগুলো বলল, রোহিঙ্গারা জাতিগতভাবে মাদ্রাসা শিক্ষা গ্রহণ করে। মাদ্রাসা ছাড়া স্কুল করা ঠিক হবে না। আমাদের স্কুল করতে দিল না। সরকার এসব এনজিওকে শনাক্ত করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। কিন্তু তারা আবার নাম পরিবর্তন করে কার্যক্রম শুরু করে। একটি এনজিও তো সাতবার নাম পরিবর্তন করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসব এনজিওর বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরে পস্তাতে হবে।’
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে শাহরিয়ার কবির বলেন, রোহিঙ্গারা যে এলাকা থেকে এসেছে, সেখানে চীন একটি মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে চায়। তাই রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। চীনের কারণে রোহিঙ্গাদের বাস্তুহারা করা হয়েছে। রোহিঙ্গারা প্রাণ নিয়ে পালিয়ে এসেছে। এখন চীনের কারণেই বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করতে পারছে না।
শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে সরকারের চুক্তি হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো রোহিঙ্গারা ফিরতে পারেনি। এ নিয়ে বাংলাদেশ যতবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাচ্ছে, ততবারই চীন ভেটো দিয়ে বলছে, এটা বাংলাদেশ-মিয়ানমারের ব্যাপার। ফলে কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করা যাচ্ছে না।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির রাজশাহী মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুজিত সরকার। জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলীর সভাপতিত্বে সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, বঙ্গবন্ধু পরিষদের রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার ঘোষ ও সাবেক ছাত্রনেতা শফিকুজ্জামান। সভাটি সঞ্চালনা করেন ছাত্রনেতা তামিম শিরাজী।