রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড

টাকা নেওয়ার নানা অভিযোগ

শাখাপ্রধান, উপবিদ্যালয় পরিদর্শক ও বিদ্যালয় পরিদর্শক মিলে একটি চক্র গড়ে তুলেছেন। তাঁদের টাকা না দিলে পরিদর্শন শাখায় কোনো কাজ হয় না।

কোনো কাজে গেলেই রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান শিক্ষকদের কাছে টাকা চান বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নওগাঁর এক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড ৩০ দিনের মধ্যে কোনো বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিকে অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। অথচ এই দপ্তরে ছয় মাস আগের ফাইলও পড়ে আছে।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁর একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রউফ গত ২২ মার্চ লিখিত অভিযোগটি জমা দেন। অভিযোগে তিনি বলেছেন, শাখাপ্রধান ভানুগোপাল পাল, উপবিদ্যালয় পরিদর্শক ও বিদ্যালয় পরিদর্শক মিলে একটি চক্র গড়ে তুলেছেন। তাঁদের টাকা না দিলে বিদ্যালয় পরিদর্শন শাখায় কোনো কাজ হয় না। অভিযোগে ভানুগোপালের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ‘এই টাকার ভাগ ওপরের কর্মকর্তাদেরও দিতে হয়। আর কেন কাজ হয় না, সে বিষয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিব অবগত আছেন।’

কর্মকর্তারা বলেন, লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত জবাব দিয়েছেন ভানুগোপাল পাল। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তবে ভানুগোপালের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষা বোর্ড সূত্র আরও জানায়, বিদ্যালয় শাখায় কোনো ফাইলে নোট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি মুঠোফোন নম্বর থেকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে ফোন দিয়ে বিকাশে টাকা চাওয়া হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাসুদুল হক ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক নাসিউল আলম বলেন, তিনি বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি নবায়নের জন্য আবেদন করেছিলেন। মাসখানেক আগে তাঁকে বিদ্যালয় পরিদর্শকের নম্বর থেকে ফোন করে বিকাশে টাকা চাওয়া হয়। তিনি জানতেন যে সোনালী সেবার মাধ্যমে বোর্ডের যেকোনো ফি জমা দিতে হয়। বিকাশে টাকা চাওয়ায় তাঁর সন্দেহ হয়। তিনি পরে সহকারী পরিদর্শককে ফোন দিয়ে জানতে পারেন, বিদ্যালয় পরিদর্শকের ফোন নম্বর ক্লোন করে প্রতারক চক্র এই কাজ করছে। তাহলে ফাইলে নোট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই চক্র কীভাবে নম্বরের খোঁজ পাচ্ছে, এটা জানা জরুরি। ফোন নম্বর ক্লোন করে টাকা চাওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট।

গত ২৩ মে বোর্ডের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি অনুমোদনের জন্য বাইরে বসে রয়েছেন নওগাঁর এমএম জেবি পাবলিক উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলাই কুমার। তিনি গত ৫ ডিসেম্বর কমিটি অনুমোদনের জন্য ফাইল জমা দিয়েছেন। নওগাঁ থেকে এই কাজে এ নিয়ে তিনবার তিনি রাজশাহীতে এসেছেন। ২৬ মে খসড়া ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা জমা দিলেন। দেরি কেন হলো, এর কারণ হিসেবে তাঁকে বলা হয়েছে, আগে অ্যাডহক কমিটি হবে। তারপর নিয়মিত কমিটি হবে। এদিকে কমিটি না থাকার কারণে তাঁদের বেতন বিল সই করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যেতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের কোনো উন্নয়নমূলক কাজের সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বিদ্যালয় পরিদর্শক মহা. জিয়াউল হক বলেন, তিনি এপ্রিল মাসে যোগদান করেছেন। বোর্ডের যেকোনো ফি সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে নেওয়া হয়। একটি চক্র বিকাশের মাধ্যমে টাকা চাচ্ছে। এটা দেখে বোঝা যায়, এরা একটি প্রতারক চক্র। তাঁদের ধরার জন্য তিনি ১৯ এপ্রিল এ ব্যাপারে নগরের রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তিনি আরও বলেন, যোগ দেওয়ার দেড় মাসের মধ্যে তিনি প্রায় ২০০ ফাইল নিষ্পত্তি করেছেন। আগের বিদ্যালয় পরিদর্শক অসুস্থ ছিলেন। শাখার আট জেলার আটজন ডিলিংস ক্লার্কের জায়গায় রয়েছেন মাত্র দুজন। তিনজন পিয়নের মধ্যে রয়েছেন একজন। লোকবলসংকটের মধ্যেও তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন।

বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমানের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। বোর্ডের সচিব হুমায়ুন কবির বলেন, লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভানুগোপাল পাল জবাব দিয়েছেন। এখন অভিযোগকারী প্রধান শিক্ষকের কাছে তাঁর অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ আছে কি না, তা যাচাই করা হবে। প্রমাণ থাকলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।