ত্বকী হত্যা: স্বীকারোক্তি দেওয়া আসামি শওকতের জামিন নামঞ্জুর

তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী
ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া আসামি সুলতান শওকত ওরফে ভ্রমরের জামিন আবেদন আবার নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন জানানো হলে শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান তা নামঞ্জুর করেন।

সুলতান শওকত নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

এর আগে দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত ১০ মার্চ আইনজীবীর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাওসার আলমের আদালতে জামিন আবেদন জানালে শুনানি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এরপর থেকে সুলতান শওকত কারাগারে আটক আছেন।

জামিন শুনানিতে মামলার বাদীপক্ষে ছিলেন আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ বাবু, মাহবুবুর রহমান ও জিয়াউল ইসলাম। আসামীপক্ষে ছিলেন রোজিনা রিতা আক্তার। রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন পিপি মনিরুজ্জামান বুলবুল।

এ বিষয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মনিরুজ্জামান বুলবুল প্রথম আলোকে জানান, ত্বকী হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া আসামি সুলতান শওকতের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। শওকত এর আগে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। শওকতের পক্ষে তাঁর আইনজীবী জামিন আবেদন জানালে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তাঁর জোর বিরোধিতা করা হয়েছে।

ত্বকী হত্যা মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ বাবু প্রথম আলোকে বলেন, ত্বকী হত্যার মামলার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে সুলতান শওকতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর মাধ্যমে। কীভাবে ত্বকীকে অপহরণের পর নৃংশসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা বেরিয়ে আসে। উচ্চ আদালত থেকে ২০১৫ সালে এক মাসের অস্থায়ী জামিন নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে পলাতক ছিলেন। আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এই আসামিকে জামিন দেওয়া কোনোভাবেই উচিত হবে না। জামিনে গেলে আসামি আবার বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন। তাই আদালতে জামিন আবেদেনের বিরোধিতা করেছেন।

২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ত্বকী। দুদিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে তাঁর উইনার ফ্যাশন কার্যালয়ে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ২০১৪ সালের ৫ মার্চ মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যারের তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাঁদেরই টর্চারসেলে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছেন। অচিরেই তাঁরা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবেন। কিন্তু গত আট বছর আড়াই মাস অতিবাহিত হলেও আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করা হয়নি।