দামি মোটরসাইকেল চুরি করে অন্য জেলায় পাঠিয়ে দেয় চক্রটি

পাঁচটি মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা চোরচক্রের সদস্য সন্দেহে গ্রেপ্তার চারজন। শনিবার দুপুরে পাবনা ডিবি কার্যালয়ে
ছবি: প্রথম আলো

দামি মোটরসাইকেল দেখলেই প্রথমে চুরির লক্ষ্য ঠিক করেন তাঁরা। এরপর চালকের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সুযোগ বুঝে চুরি করেন মোটরসাইকেলটি। এরপর এক জেলার মোটরসাইকেল পাঠিয়ে দেন অন্য জেলায়।

পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অভিযান চালিয়ে আন্তজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের এমন চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান ডিবি কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন সুজানগর উপজেলার ঘোপসিলন্দা গ্রামের আল আমিন (২৮), আটঘরিয়া উপজেলার দেবত্তরের হিন্দুপাড়ার গ্রামের সোহাগ হোসেন (২৫), পাবনা জেলা সদরের মনির হোসেন (৪০), চাটমোহর উপজেলার কৈলমহল গ্রামের শিপন হোসেন (২৫)। তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় দুইয়ের অধিক চুরির মামলা রয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে জেলায় মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা বেড়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে থেকে এক ব্যক্তির একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক অসিত কুমার বসাকের নেতৃত্বে একটি অভিযানিক দল গঠন করা হয়। দলটি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মোটরসাইকেল চোর চক্রটির চার সদ্যকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার চারজনের দেওয়া তথ্যর ভিত্তিতে নাটোরের সিংড়া উপজেলা ও পাবনা সদরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, চক্রটি বহুদিন ধরে মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত। তাঁরা দামি মোটরসাইকেল দেখলেই চুরির টার্গেট করতেন। তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে চুরির একাধিক মামলা রয়েছে। নতুন মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সপুার (ডিএসবি) জেন্না আল মামুন, সহকারী পুলিশ সুপার আরজুমান আক্তার, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর খন্দকার প্রমুখ।