কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ দেখতে গিয়ে মসজিদের এক নৈশপ্রহরী গুরুতর আহত হন। বুধবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত ব্যক্তির নাম কামাল মিয়া (৫৫)। তিনি ভৈরব পৌর শহরের ঘোড়াকান্দা এলাকার লাল মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, ভৈরব পৌরসভার ঘোড়াকান্দা এলাকার ছাত্তার মিয়ার এলাকায় আধিপত্য আছে। পৌর শহরের ভৈরবপুর এলাকার উমান মিয়া নামের এক ব্যক্তির বাহিনী রয়েছে। ভৈরবপুর এলাকার বিজয় মিয়া নামের এক ব্যক্তি এখন ঘোড়াকান্দায় বাস করেন। পূর্ব ঘটনার জেরে গত রোববার ছাত্তার মিয়ার লোকজন বিজয়কে মারধর করেন।
বিজয়ের পক্ষ নিয়ে উমান মিয়ার লোকজন ঘোড়াকান্দায় গিয়ে হামলা চালান। এর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। কামাল ঘোড়াকান্দা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন মসজিদে নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি কোনো পক্ষের নন।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উমানের লোকজন দা-লাঠি নিয়ে ঘোড়াকান্দায় গিয়ে ছাত্তার মিয়ার লোকজনের বাড়িতে হামলা চালান। তখন ছাত্তার পক্ষ প্রতিরোধে নামে। ওই সময় মসজিদ পাহারার দায়িত্বে ছিলেন কামাল। হইচই শুনে তিনি ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। তখন উমানের লোকজন তাঁকে পেয়ে দা দিয়ে কোপান। একই সময় ছাত্তার পক্ষের জাকির হোসেন নামের আরেক ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষ। জাকির বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। রাতেই কামালকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ছাত্তার মিয়া বলেন, ‘আমাদের মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে গভীর রাতে হামলা হয়েছে। যাকে সামনে পেয়েছে তাদের ওপরই হামলা চালায় উমান বাহিনী।’
প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য উমানের মুঠোফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে নৈশপ্রহরী কামাল মিয়ার মেয়ের স্বামী সারোয়ার মিয়া জানান, দুর্বৃত্তরা তাঁর শ্বশুরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে। তাঁর মাথার পেছনের একটি কোপ ছিল গভীর।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মস্তুফা বলেন, মূলত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা থেকে গভীর রাতের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং কামাল মিয়ার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।