
সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার ধরমপাশা গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ রঞ্জন সরকার (৫৫) নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। চার শতক ভূমির বায়না বাবদ তিন লাখ নিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করে না দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের পিন্টু দে ওরফে পলাশ (৩২) নামের এক ব্যক্তি গতকাল বুধববার রাতে মামলাটি করেন।
এর আগে ব্যাংক কর্মকর্তা বিকাশ রঞ্জন সরকারকে মারধর, অবরুদ্ধ করে রাখা ও প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনায় তিনি (বিকাশ রঞ্জন সরকার) সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে রতনের বড় ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মোশারফ হোসেন ওরফে মাসুদ (৫৮) ও তাঁর ভাতিজা তানভীর হোসেন ওরফে সাগরকে (২৪) আসামি করে থানায় গত মঙ্গলবার রাতে মামলা করেন। ওই ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়ি উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের পাইকুরাটি গ্রামে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সদর ইউনিয়নের ধরমপাশা গ্রামে বসবাস করছেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ে পরিদর্শক পদে কর্মরত।
পিন্টু দের মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় চার মাস আগে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের পাইকুরাটি নতুন বাজারে বিকাশ রঞ্জন সরকারের মালিকানাধীন ভূমি থেকে চার শতক জায়গা ১০ লাখ টাকা মূল্যে বিক্রয়ের জন্য পিন্টু দে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌসুর রহমান, পাইকুরাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফাসহ আরও কয়েকজনের সামনে বিকাশ রঞ্জনকে তিন লাখ বায়না দেন। এক মাস পরই দলিল রেজিস্ট্রি করে দিয়ে অবশিষ্ট সাত লাখ টাকা বুঝে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দলিল রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা আজকাল করে করে সময়ক্ষেপণ করছিলেন। পরে ২ মে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পাইকুরাটি নতুন বাজারে বিকাশ রঞ্জনকে পেয়ে তিনি (পিন্টু) জমি দলিল করে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিকাশ রেজিস্ট্রি করে দেবেন না বলে জানান। এমনকি পিন্টুকে তিনি প্রাণনাশেরও হুমকি দেন।
মামলার সাক্ষী উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফেরদৌসুর রহমান বলেন, ‘এখন এ নিয়ে কিছু বলব না। যখন প্রয়োজন হয়, তখন বলব।’
মামলার অপর সাক্ষী পাইকুরাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বিকাশ বাবুর কাছ থেকে জায়গা কেনা বাবদ তিন লাখ টাকা বায়না দেওয়ার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।’
বিকাশ রঞ্জন বলেন, ‘চার শতক জমি বিক্রির বায়না বাবদ পিন্টু দের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগটি ভিত্তিহীন। তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দিইনি। আমাকে মারধর, আটক করে রাখা ও প্রাণনাশের হুমকির চেষ্টায় সাংসদের বড় ভাই ও ভাতিজাকে আসামি করে থানায় যে মামলাটি আমি করেছি, সেটিকে কাউন্টার হিসেবে সাংসদের ঘনিষ্ঠজনদের সাক্ষী রেখে পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যা মামলাটি করেছে।’
ধরমপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।