‘নকল ডাক’ শুনে নিচে এলেই পাখি আটকা পড়ে ফাঁদে

শিকারিদের ফাঁদে আটকা ৪০টি দেশীয় ও পরিযায়ী পাখি উদ্ধার করে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুর ঘাটে
ছবি: প্রথম আলো

অবিকল পাখির ডাক। মুঠোফোন ব্যবহার করে ছোট ছোট সাউন্ডবক্সের সাহায্যে বিল, খাল ও জলাশয়ের পাশে বাজানো হয় পাখির সেই নকল ডাক। ডাক শুনে নিচে নেমে ফাঁদে আটকা পড়ছে ডুঙ্কর, বাবুই, কালকুচ, কাইনসহ নানা দেশি ও পরিযায়ী পাখি। সোমবার ভোরে বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার কোদালিয়া ও মেহেরপুর বিলে অভিযান চালিয়ে এমনভাবে ধরা ৪০টি পাখি উদ্ধার করা হয়। এর সঙ্গে জড়িত অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

আটক দুজন হলেন মোল্লাহাট উপজেলার আড়ুয়াডিহি গ্রামের রিপন বাড়ৈ (৩৮) ও একই গ্রামের সরত রায় (৩৬)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে রিপনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং সরত রায়কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন মোল্লাহাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দ্য মণ্ডল।

দুপুরে মোল্লাহাট উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুর ঘাটে শিকারিদের কাছ থেকে উদ্ধার ৪০টি পাখি অবমুক্ত করা হয়। এ নিয়ে গত দুই সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ৬৫টি পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হলো।

মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ওয়াহিদ হোসেন বলেন, নদী, খাল ও বিলবেষ্টিত উপজেলার একটি বড় অংশজুড়ে শীত মৌসুমে প্রচুর পাখি দেখা যায়। বিশেষ করে ভোর ও সন্ধ্যাবেলায়। এই সুযোগে একশ্রেণির অসাধু শিকারি পাখি শিকার করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আজ ভোরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ৪০টি পাখি, পাখি ধরার ফাঁদ, সাউন্ডবক্স, ব্যাটারিসহ দুজনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও আরও বলেন, পাখিশিকারে এখানে অভিনব কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। বিলের মধ্যে ব্যাটারি দিয়ে ছোট ছোট সাউন্ডবক্স লাগিয়ে রাখছে শিকারিরা। পরে মুঠোফোনের সাহায্যে ইন্টারনেট থেকে পাখির ডাক নামিয়ে ভোরে তা বাজানো হয়। ওই ডাক শুনে পাখিরা নিচে অন্য পাখি ও খাবার খুঁজতে নামে। নেমে সুতা দিয়ে তৈরি ফাঁদে আটকা পড়ছে। এ ছাড়া নাইলনের সুতায় বড়শি দিয়ে জীবিত মাছ গেঁথেও পাখি শিকার করা হচ্ছে। এসব শিকার ঠেকাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।