লালমনিরহাটের সেই নবজাতকের মা, বাবা ও নানি গ্রেপ্তার

সমাজসেবা অধিদপ্তরের রাজশাহীর ছোট মণি নিবাসে ঠাঁই পাওয়া লালমনিরহাট থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে উদ্ধার নবজাতক ফাল্গুনীর মা, বাবা ও নানিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ নিয়ে আজ সকালে লালমনিরহাট সদর থানায় প্রেস ব্রিফিং হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামালের উপস্থিতিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহা আলম। উপস্থিত ছিলেন সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহীদুল ইসলাম, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানার এসআই তাজরুল ইসলাম সরদার।


প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, লালমনিরহাট শহরের একটি কলেজের এক ছাত্রী তাঁর বোনের স্বামীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, এতে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। ওই ছাত্রী বিষয়টি বুঝতে পেরে একা একা ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়ে রাখেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ওই ছাত্রী অসুস্থতা বোধ করলে তাঁর মা তাঁকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে হাসপাতালের বাথরুমে মেয়েটি একটি কন্যাসন্তান প্রসব করেন। পরে মেয়েটি তাঁর মা (নবজাতকের নানি) ও বড় বোনের স্বামীর (নবজাতকের বাবা) যোগসাজশে হাসপাতালের কাউকে কিছু না বলে নবজাতকটিসহ হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসেন। পরে নবজাতকটিকে তাঁরা (মা ও নানি) লালমনিরহাট শহরের পুরান বাজার এলএসডি গোডাউনের সামনের পাকা সড়কের একটি মুদিদোকানের নিচে ফেলে চলে যান। ৯৯৯ ফোনের সূত্রে লালমনিরহাট সদর থানার পুলিশ ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে পরিত্যক্ত নবজাতকটিকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করে।


লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানার সার্বিক নির্দেশনায় ১৪ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিত্যক্ত নবজাতকটির সার্বক্ষণিক পরিচর্যা করেন চারজন নারী পুলিশ কনস্টেবল।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহা আলম বলেন, এ ঘটনায় ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সদর থানার এসআই রফিকুল ইসলাম আকন্দ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় নবজাতকের বাবা, মা ও নানিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তিনজনই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোর রংপুর সংস্করণে ‘১০ দিন বয়সী ফাল্গুনীর ঠাঁই হলো ছোট মণি নিবাসে’ শিরোনামে একটি সচিত্র বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।