পর্যটকদের জন্য সৈকতে পাঠাগার

সন্তানকে নিয়ে পাঠাগারে বই পড়ছেন এক ব্যক্তি
ছবি: সংগৃহীত

একদিকে সমুদ্রের বিস্তীর্ণ জলরাশি, অপর দিকে সৈকতে ধু ধু বালু। এমন সৌন্দর্যে মগ্ন হন না এমন মানুষ কমই আছে। এই পরিবেশে যদি প্রিয় কোনো লেখকের বই পড়া যায়, তাহলে তো কথা নেই। চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ঠিক এ রকম সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে বই পড়ার সুযোগ করে দিচ্ছে একটি সংগঠন।

গতকাল বুধবার বাঁশখালী উপজেলার কদম রসুল সমুদ্রসৈকত পয়েন্টে পাঠাগার চালু করেছে বইপ্রেমীদের সংগঠন বইবন্ধু। পাঠাগারের উদ্বোধন করেন বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজনীতিবিদ এনামুল হক চৌধুরী ও লেখক সিরাজুল ইসলাম।

স্থানীয় তরুণদের এমন অসাধারণ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এনামুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, এ এলাকায় বই নিয়ে এ ধরনের আয়োজন খুবই চমৎকার। পাঠাগারের জন্য সব ধরনের সহায়তা করার আশ্বাস দেন তিনি।

ব্যতিক্রমী এই পাঠাগারের উদ্যোক্তা বইবন্ধুর চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক তানভীর রিসাত প্রথম আলোকে বলেন, সারা দেশে তাঁদের কার্যক্রম রয়েছে। তবে সমুদ্রসৈকতে এ ধরনের পাঠাগার তাঁরা প্রথম করেছেন। পাঠাগারে প্রায় দুই শ বই আছে। এখানে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, মুক্তিযুদ্ধ, শিশুতোষসহ নানা বয়সীদের জন্য বই রাখা হয়েছে।

পাঠক তাঁর পছন্দের বই পড়ার সুযোগ পাবেন। এতে সৈকতে ঘুরতে আসা দর্শীনার্থীদের ভালো সময় কাটবে।

আপাতত ঝড়–বৃষ্টি থেকে পাঠাগারটি রক্ষা করতে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে পাঠাগারের জন্য স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করার পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছেন তানভীর রিসাত। বইবন্ধুর স্বেচ্ছাসেবকেরা বই বিতরণ ও তদারকির কাজ করবেন। তবে বাড়িতে বই নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি।

সৈকত এলাকায় ঘুরতে আসা কয়েকজন পর্যটক বলেন, সৈকতের মোহনীয় রূপের সঙ্গে বই নিয়ে এমন আয়োজন এলাকাবাসীসহ বইপ্রেমীদের জন্য অনেক আনন্দের। এখন থেকে সৈকতে সমুদ্রের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগের সঙ্গে বই পড়ে দারুণ অবসর কাটানো যাবে।

২০১৮ সালে কার্যক্রম শুরু করে বইবন্ধু। সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বই বিনিময় উৎসবের আয়োজন করে। এতে শত শত পাঠকের ঢল নামে।