পিস হিসেবে তরমুজ কিনে কেজি দরে বিক্রি, ১৪ ব্যবসায়ীর জরিমানা

বরিশাল নগরের পোর্টরোড, ফলপট্টি, জেলখানার মোড়, নতুন বাজার, নাথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড, চৌমাথা বাজার, বাংলাবাজার এলাকায় অভিযান চালান দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
ছবি: প্রথম আলো

বরিশাল নগরে এবার তরমুজের বাজার চড়া—ক্রেতারা অনেক দিন ধরেই এমন অভিযোগ করে আসছিলেন। রমজান ও ধারাবাহিক অধিক দাবদাহের কারণে একটু স্বস্তি পেতে এবার ক্রেতাদের কাছে তরমুজের চাহিদাও বেশি। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

ক্রেতারা বলছেন, আগে বরিশালের বাজারে তরমুজ বিক্রি হতো পিস হিসেবে। কিন্তু এবারই প্রথম ব্যবসায়ীরা তা কেজি হিসেবে বিক্রি করছেন। প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা করে হওয়ায় ৪০০-৫০০ টাকার নিচে কোনো তরমুজ কিনতে পারছিলেন না ক্রেতারা।

ক্রেতাদের এ নিয়ে ক্ষোভ আর নানা প্রশ্নের পর বরিশালের তরমুজ বাজারে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। আজ সোমবার বিকেলে নগরের পোর্টরোড, ফলপট্টি, জেলখানার মোড়, নতুন বাজার, নাথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড, চৌমাথা বাজার, বাংলাবাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের নির্দেশে সেমাবার বিকেলে ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল হাই এবং রয়া ত্রিপুরা অভিযান চালান। এ সময় বাজারে অবস্থানরত ক্রেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রত্যক্ষ করেন তরমুজ ব্যবসায়ীরা পিস হিসেবে আড়ত থেকে তরমুজ কিনে ক্রেতাদের কাছে কেজি হিসেবে তা অধিক মূল্যে বিক্রি করছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল হাই আটজন ব্যবসায়ীকে ৬ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করেন। একটি অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়া ত্রিপুরা ছয়জন ব্যবসায়ীকে ৩ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করেন।

অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল হাই এবং রয়া ত্রিপুরা বলেন, এটা ক্রেতাদের সঙ্গে চরম প্রতারণা। এ জন্য অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।