
মৌলভীবাজার জেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে গত বুধবার তাহমিনা বেগম নামের এক গৃহবধূ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পেট ও বুক জোড়া লাগানো যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। শিশু দুটিকে বাঁচানো নিয়ে দরিদ্র তাহমিনার পরিবার এখন অথৈ সাগরে। তাহমিনা ও তাঁর স্বামী পানের দোকানদার জুয়েল আহমেদ তাঁর সন্তানদের উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন। এই দম্পতির বাড়ি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগর ইউনিয়নের শিংরাউরী গ্রামে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলা শহরের বেসরকারি জান্নাত হাসপাতালে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ফারজানা হকের অধীনে এ যমজ শিশুদের জন্ম হয়। শিশু দুটি বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। চিকিৎসক ফারজানা হক বলেন, যমজ শিশু দুটির উন্নত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন করতে ঢাকায় যেতে হবে। তিনি শিশুর মা–বাবাকে সে পরামর্শই দিয়েছেন।
তাহমিনা ও তাঁর স্বামী পানের দোকানদার জুয়েল আহমেদ তাঁর সন্তানদের উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন।
এদিকে, অর্থাভাবে দরিদ্র পানদোকানি জুয়েল তাঁর যমজ মেয়েদের চিকিৎসা নিয়ে এখন দিশেহারা অবস্থায়। জুয়েল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় কুমিল্লা হোটেলের সামনে পান-সিগারেট বিক্রি করেন। তাঁর স্বল্প আয়ে যমজ এ দুই শিশুর চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে সফল অস্ত্রোপচার করে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। তাঁর পক্ষে এ ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান অথবা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপেই তাঁর যমজ শিশুর সফল অস্ত্রোপচার সম্ভব। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ সবার কাছে সহায়তা প্রার্থনা করেন।
শিশু দুটির বিষয়ে অবগত রয়েছেন জানিয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, আজ শনিবার কোনো একসময় জান্নাত হাসপাতালে যমজ শিশু দুটি দেখতে যাবেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে এ শিশুর চিকিৎসার ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু সাহায্য করারও উদ্যোগ নেবেন।