ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর

প্রাণকেন্দ্রে আবর্জনার ভাগাড়, দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় দুর্ভোগ

কোর্ট রোড এলাকা শহরের প্রাণকেন্দ্র। এখানে শহরের বড় বড় বিপণিবিতান রয়েছে। এখানে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সুপার মার্কেটের খালি জায়গাটি এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে
 ছবি:  প্রথম আলো

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সুপার মার্কেটের খালি জায়গা এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতারা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দুর্গন্ধের কারণে শহরের কোর্ট রোড এলাকা দিয়ে চলাচলের সময় নাকমুখ রুমাল, কাপড় বা হাত দিয়ে চেপে ধরে রাখতে হয়।

স্থানীয় লোকজন জানান, কাউতলী থেকে ঘাটুরাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ভেতরের প্রধান সড়ক। শহরের কোর্ট রোড এলাকাটিই কেনাকাটার প্রধান জায়গা। কোর্ট এলাকায় সাতটি বিপণিবিতানসহ বিভিন্ন ব্যাংক, আবাসিক হোটেল, খাবার হোটেল, ফার্মেসি, প্রসাধনসামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের দোকান রয়েছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দোকানও ওই এলাকায় অবস্থিত। তাই এটিকে শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শহরের প্রাণকেন্দ্রে থাকা সবচেয়ে বড় বিপণিবিতান সুপার মার্কেট প্রায় দেড় বছর আগে ভাঙা হয়। সেখানে বহুতলবিশিষ্ট ও নান্দনিক একটি সুপার মার্কেট নির্মাণ করা হয়। কিন্তু কয়েক মাস ধরে ওই খালি জায়গায় ময়লা ও আবর্জনা ফেলছেন পৌর কর্তৃপক্ষ।

ওই স্থানে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় থাকায় সুপার মার্কেটসংলগ্ন গ্রিন সুপার মার্কেট, সিটি সেন্টার ও ফরিদ উদ্দিন আনোয়ার টাওয়ারের ব্যবসায়ী এবং সেসব বিপণিবিতানে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতারা দুর্গন্ধের কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ভেঙে ফেলা সুপার মার্কেটের খালি জায়গায় বিভিন্ন হোটেল ও বিভিন্ন স্থানের ময়লা-আবর্জনা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। দুর্গন্ধে সেখানে টেকা যায় না। সুপার মার্কেটের আশপাশের এলাকায় ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ইউসিবিএল ব্যাংক, আইএফআইসি, জনতাসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকের শাখা। ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে ব্যাংকের গ্রাহকেরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য পৌর এলাকার ছয়বাড়িয়ায় রয়েছে পৌরসভার বিশাল জায়গা। আগে সেখানেই ময়লা-আবর্জনা ফেলা হতো। কিন্তু সুপার মার্কেট ভেঙে ফেলার পর পৌর কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সেখানেও ময়লা-আবর্জনা ফেলছে।

জায়গা না থাকায় ওই স্থানে অস্থায়ীভাবে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ওই স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে
মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, সচিব,ব্রাহ্মণবাড়িয় পৌরসভা

ওই এলাকার ব্যবসায়ী মো. আরমান, মনির হোসেন, শরিফুল আলম জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পৌরসভার ছোট ছোট ট্রলি ও ভ্যান দিয়ে শহরের বিভিন্ন মহল্লা থেকে বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা এনে এখানে রাখা হয়। ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে ওই এলাকার পরিবেশও দূষিত হচ্ছে।

কোর্ট রোডের ব্যবসায়ী সোহাগ মিয়া বলেন, ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে বর্তমানে তাঁদের ব্যবসা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। রোজা রেখে সারা দিন নাক চেপে ধরে ব্যবসা করতে হয়। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আরেক ব্যবসায়ী তানভীর মিয়া বলেন, করোনার কারণে এমনিতেই ব্যবসার অবস্থা ভালো না। কিন্তু বর্তমানে ময়লার দুর্গন্ধের মধ্যে কষ্ট সহ্য করেই দোকান খোলা রাখতে হচ্ছে। দ্রুত সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ না হলে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

ব্যাংক কর্মকর্তা কবীর চৌধুরী ও আনিকা ইসলাম বলেন, কোর্ট রোড শহরের প্রাণকেন্দ্র। এখানে ময়লা-আবর্জনা রাখার সিদ্ধান্ত পৌরসভা কীভাবে নিয়েছে? এটা তো কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ। ন্যূনতম জ্ঞান থাকলেও তো শহরে মধ্যে বিভিন্ন এলাকার ময়লা-আবর্জনা এনে রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না পৌরসভা।

এ বিষয়ে পৌরসভার সচিব মোহাম্মদ শামসুদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘জায়গা না থাকায় ওই স্থানে অস্থায়ীভাবে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনা শুকিয়ে গেলে সেখান থেকে সরিয়ে অন্যত্র ফেলা হয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। ওই স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’