দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ঈদে ঘরমুখী মানুষ ট্রাক-পিকআপ, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গন্তব্যে যাচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরেই অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে এই মহাসড়কে। আজ মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে যানবাহনের চাপ আরও বেশি বাড়তে শুরু করে। অতিরিক্ত চাপ থাকায় বিকেল থেকে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে দুর্ভোগে পড়তে হয় ট্রাকের যাত্রীদের। বৃষ্টিতে ভিজে তাদের গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
সেতুর টোলপ্লাজা সূত্র জানায়, স্বাভাবিক অবস্থায় ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ১২–১৩ হাজার যানবাহন সেতু পারাপার হয়। সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সেখানে ৪১ হাজার ৬২০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ও গাজীপুর এলাকার পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন কারখানা ছুটি হওয়ার পর মঙ্গলবার যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। দূরপাল্লার বাস না চলায় এসব শ্রমিকের উচ্চ ভাড়ায় ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।
আজ সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের রাবনা মোড়ে কথা হয় পোশাকশ্রমিক শফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে সিরাজগঞ্জের হটিকমরুল মোড় পর্যন্ত জনপ্রতি ৮০০ টাকা ভাড়ায় তাঁরা একটি পিকআপ ভ্যানে উঠেছেন। সেখান থেকে অন্য কোনো উপায়ে বগুড়া যাবেন।
বাইপাস সড়কে অপেক্ষা করছিলেন কিছু ধানকাটা শ্রমিক। তাঁরা জানান, টাঙ্গাইল থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত যেতেই ট্রাকে ৩০০ টাকা ভাড়া চাচ্ছে। লালমনিরহাটের বাড়ি যেতে তাঁদের এবার পাঁচ–ছয় গুণ বেশি টাকা খরচ হবে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) ইয়াসির আরাফাত মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটায় প্রথম আলোকে বলেন, যানবাহনের চাপ বাড়লেও এখন পর্যন্ত যানজট হয়নি। তবে অতিরিক্ত চাপে কোথাও কোথাও ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে।