কলেজছাত্র সাব্বিরের বরইবাগান। গত শনিবার পাকুন্দিয়া সদরের নিশ্চিন্তপুরে
কলেজছাত্র সাব্বিরের বরইবাগান। গত শনিবার পাকুন্দিয়া সদরের নিশ্চিন্তপুরে

বরই চাষে সফল সাব্বির

গত বছর করোনায় কলেজ বন্ধ থাকায় বাবার কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে ৬ একর জমি ইজারা নেন সাব্বির।

বাগানের চারদিকে তাকালে শুধু বরই আর বরই। ছোট গাছগুলো বরইয়ের ভারে নুইয়ে পড়েছে। বরইয়ের এ বাগান গড়ে তুলেছেন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার কলেজশিক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেন।

গত বছর করোনায় কলেজ বন্ধ থাকায় বাবার কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে ৬ একর জমি ইজারা নেন সাব্বির। পরে সেখানে বল সুন্দরী, কাশ্মীরি, আপেল কুল জাতের বরই আবাদ করেন। এক বছরে সাব্বির পেয়েছেন অভাবনীয় সাফল্য। ছেলের এ সফলতায় গর্ব বোধ করছেন বাবা।

সাব্বির পাকুন্দিয়া উপজেলা সদরের বড়বাড়ি এলাকার রঙ্গু মিয়ার ছেলে। তিনি পাকুন্দিয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

গত শনিবার উপজেলা সদরের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় সাব্বিরের বরইবাগানে গিয়ে দেখা যায়, সাব্বির, তাঁর বাবা রঙ্গু মিয়া ও আরও পাঁচ যুবক বরই তুলতে ব্যস্ত। এ সময় কথা হয় সাব্বিরের সঙ্গে। তিনি বলেন, করোনার সময় কলেজ বন্ধ থাকায় সারা দিন না ঘুরে বাগানে সময় দেন। গাছ পরিচর্যা ও বরই তুলতে তাঁকে স্থানীয় ১০ যুবক সহযোগিতা করেন। সবার পরিশ্রমে বড়ই চাষে ভালো আয় করছেন তাঁরা। এতে তাঁরা নিজেরা চলার পাশাপাশি প্রত্যেকের পরিবারও উপকৃত হচ্ছে।

সাব্বির আরও বলেন, প্রতিদিন তাঁর বাগানে আসা অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকদেরও আয় হচ্ছে। প্রতিটি গাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ কেজি বড়ই তুলতে পারছেন তাঁরা। বাগানটি তিনি আরেকজনের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকায় ইজারা নেন। এ থেকে তিনি প্রায় তিন লাখ টাকা আয় করতে পারবেন।

সাব্বিরের বাবা জানান, করোনার লকডাউনের সময় সাব্বির অন্য ছেলেদের মতো অলস সময় না কাটিয়ে বরই চাষে মনোযোগ দেন। সারাক্ষণ এর পরিচর্যা করেন। যে কারণে তিনি আজ সফল। তাঁর সফলতা দেখে বাবা হিসেবে ভালো লাগার পাশাপাশি ছেলেকে নিয়ে তিনি গর্ববোধ করেন।

পাকুন্দিয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক বরকত আকন্দ বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা সাব্বিরের সফলতা দেখে এলাকার অনেক তরুণ, ছাত্র ও যুবকেরা বরই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হামিমুল হক বলেন, তাঁরা নিয়মিত সাব্বিরকে পরামর্শ দিয়ে আসছেন। সাব্বির খুব অল্প সময়ে একজন কলেজশিক্ষার্থী হিসেবে বরই চাষে যেভাবে সফলতা পেয়েছেন, সেটা অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি আশাবাদী সাব্বিরের এ সফলতা দেখে অন্যান্য বেকার শিক্ষার্থীসহ তরুণ উদ্যোক্তারা বরই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবেন।