শ্রেণিকক্ষের টেবিল এনে রাখা হয়েছে ভবনের সামনে। কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে ওই টেবিলকে বানানো হয়েছে শহীদ মিনারের বেদি। টেবিলের ওপর কাঠের টুকরা দিয়ে কায়দা করে সাজিয়ে শহীদ মিনারের কাঠামো বানানো হয়েছে। আজ সোমবার সকালে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার ১ নম্বর কবাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
বিদ্যালয়ে স্থায়ী কোনো শহীদ মিনার নেই। তাই কাঠ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়েছে স্কুলের শিক্ষার্থীরা। আজ সকালে নিজেদের বানানো শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছে তারা।
উপজেলা সদর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে কবাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান। প্রাক্-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৬৮৮ শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। আজ সকালে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নিজেদের মতো করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজিয়েছে তারা। কাঠের ওপর কালো আর লাল রং করে রঙিন করা হয়েছে অস্থায়ী শহীদ মিনার। আর এর চারপাশ রঙিন কাগজ দিয়ে সাজানো হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী আজম রিফাত বলে, ‘আমরা ছয় বছর ধরে এ কাঠের তৈরি শহীদ মিনারেই ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাই। ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবসের আগের দিন সবাই মিলে শহীদ মিনার রং করা ও সাজানোর কাজ করি।’
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলে, অস্থায়ী শহীদ মিনার হলেও তারা আয়োজনে কোনো কমতি রাখে না। তবে এ বিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার থাকলে আরও ভালো হতো।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম বদিউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় ২০১৭ সালে দেড় হাজার টাকায় কাঠের শহীদ মিনারটি তৈরি করা হয়েছিল। প্রতিবছরই শহীদ মিনারে রং করা হয়। রং করা, শহীদ মিনার স্থাপন ও সাজানো সব দায়িত্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই করে। ছয় বছর ধরে এ শহীদ মিনারেই ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করার মতো বিদ্যালয়ের তহবিলে টাকা না থাকায় কাঠের তৈরি শহীদ মিনারই ভরসা।