ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনার টিকার নিবন্ধন করার জন্য ফি দিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রবাসীরা। তিন দিন ধরে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) অপেক্ষা করছেন তাঁরা। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও কারিগরি ত্রুটির কারণে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) নির্ধারিত ফি পাঠাতে পারছেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রবাসী কর্মীদের টিকা নিতে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ওয়েবসাইটে বা মুঠোফোনে ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্ধারিত ২০০ টাকা ফি জমা দিতে হবে। এই টাকা বিকাশ, রকেট বা নগদের মাধ্যমে বিএমইটিতে পাঠাতে হবে। টাকা জমা দেওয়ার পর প্রবাসী কর্মীদের বিএমইটির অধীন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয় এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।
এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুরক্ষা ডটকম ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। অধিদপ্তর থেকে তাঁদের মুঠোফোনে টিকা দেওয়ার খুদে বার্তা যাবে। এই খুদে বার্তা নিয়ে টিকা নিতে প্রবাসী কর্মীদের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্র থেকে টিকা নেওয়া যাবে।
শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তেজখালি এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া টিটিসির উদ্দেশে রওনা করেন কুয়েতপ্রবাসী কামাল হোসেন, নবী মিয়া ও মো. সালাউদ্দিন। তাঁরা শনি ও রোববার দুই দিন চেষ্টা করেও টিকার জন্য নিবন্ধনের ফি জমা দিতে পারেননি। তাঁরা বলেন, রাতে খুব কষ্ট করে থেকেছেন। নগদে ফি পাঠিয়েছেন। নগদ টাকা কেটে নিয়েছে। কিন্তু বিএমইটিতে পেমেন্ট হয়নি।
রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া টিটিসির ভেতরে সাতটি বুথ খোলা হয়েছে। বুথের বাইরে প্রবাসীদের ভিড়। এর মধ্যে একটি বুথে প্রবাসী কর্মীরা পাসপোর্টের ফটোকপি ও নিবন্ধনের ফি জমা দিয়ে চলে যাচ্ছেন। বেলা দুইটা পর্যন্ত প্রায় ২৮৫ জন প্রবাসী কর্মী নিবন্ধনের ফি জমা দিয়েছেন।
টিটিসির ইন্সট্রাক্টররা বলেন, সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বিএমইটিতে নিবন্ধনের ফি জমা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এই এক ঘণ্টায় প্রায় দুই শ প্রবাসী কর্মী নিবন্ধনের ফি জমা দিতে পেরেছেন।
সদর উপজেলার বিরাসার গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মো. শ্যামল বলেন, ‘শুক্রবার, শনিবার ও রোববার তিন দিন এসেও টিকার জন্য নিবন্ধনের ফি জমা দিতে পারিনি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া টিটিসির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আক্তার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অ্যাপ বা লিঙ্কের ত্রুটির কারণে নিবন্ধন করতে হয়তো সময় লাগছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।