
সারা দেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় শনিবার শুরু হচ্ছে করোনার গণটিকাদান কর্মসূচি। ওই দিন জেলার ১১০টি টিকাকেন্দ্রের ৩০৬টি বুথে ৬১ হাজার ২০০ টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। শনিবার সকাল নয়টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত এসব বুথে করোনার টিকা দেওয়া হবে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯ উপজেলার ৯৮টি ইউনিয়ন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে এসব টিকা দেওয়া হবে। করোনার টিকা দেওয়ার জন্য জেলার ৯৮টি ইউনিয়নের ৯৮টি কেন্দ্রের প্রতিটিতে তিনটি করে বুথ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে ১২টি বুথ খোলা হবে। প্রতিটি বুথে টিকাদানের জন্য দুজন স্বাস্থ্যকর্মী ও তিনজন স্বেচ্ছাসেবক ও একজন সুপারভাইজার থাকবেন। এ ছাড়া প্রতিটি বুথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। ৩০৬টি বুথের প্রতিটিতে ২০০ জনকে করোনার টিকা দেওয়া হবে।
এদিকে শুক্রবার সারা দিন জেলার পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে, বিভিন্ন উপজেলায়, ইউনিয়ন পর্যায়ে গণটিকা দেওয়ার বিষয়ে মাইকিং করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ১ থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের গণটিকাদানকেন্দ্রগুলো হলো মেড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (সিও অফিস–সংলগ্ন), ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর কলেজ, মুন্সেফপাড়ার ক্রিসেন্ট কিন্ডারগার্টেন, পূর্ব পাইকপাড়ার হুমায়ুন কবির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্যপাড়ার হুমায়ুন কবির পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পৈরতলার দক্ষিণ পৈরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোকর্ণঘাটের গোকর্ণঘাট উচ্চবিদ্যালয়, কাজীপাড়ার পৌর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মৌড়াইলের সাহেরা গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলেজপাড়ার নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চবিদ্যালয়, শিমরাইলকান্দির শিমরাইলকান্দি বিএডিসি কার্যালয় ও ভাদুঘরের ভাদুঘর পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, শনিবার জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সকাল নয়টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত গণটিকাদান চলবে। ১৪ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় করোনার গণটিকা কর্মসূচি চলবে। তবে জেলার অন্যান্য নির্দিষ্ট কেন্দ্রে করোনার টিকার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু থাকবে। প্রথম টিকা দেওয়ার এক থেকে দেড় মাস পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান প্রথম আলোকে বলেন, গণটিকাদান কর্মসূচির জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। জেলার সব উপজেলার স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউট প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের তিনটি বুথে ২০০ করে মোট ৬০০ জনকে করোনার টিকা দেওয়া হবে। প্রথম দিন জেলায় কমপক্ষে ৬১ হাজার ২০০ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে।