বরিশাল নগর

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামছে, বাড়ছে সংকট

■ বরিশাল নগরে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি লিটার পানির ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে পাম্প দিয়ে পানি তোলা হচ্ছে। এতে পানির স্তর নিচে নামছে।

■ নগরের ৩০টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দৈনিক পানির চাহিদা ৫ কোটি ২৬ লাখ লিটার।

■ এর মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২ কোটি ৪০ লাখ লিটার। পুরোটাই তোলা হচ্ছে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে।

■ ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি শোধনাগার নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৫ সালে। আজও এগুলো চালু হয়নি।

ভূগর্ভস্থ পানির উৎসের ওপর চাপ পড়ায় বরিশাল নগরে পানির সংকট প্রকট হচ্ছে। একই সঙ্গে পানির স্তরও নিচে নেমে যাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নগরবাসীর পানি চাহিদা পূরণে দুটি পানি শোধনাগার প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হলেও নির্মাণত্রুটির কারণে সাড়ে পাঁচ বছরেও তা চালু করা যায়নি।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের পানি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, নগরের ৩০টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দৈনিক পানির চাহিদা ৫ কোটি ২৬ লাখ লিটার। এর মধ্যে সরবরাহ রয়েছে মাত্র ৪৫ শতাংশ, যার পরিমাণ ২ কোটি ৪০ লাখ লিটার। এই পানির পুরোটাই তোলা হচ্ছে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে।

পানি বিভাগ জানায়, বরিশাল নগরে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি লিটার পানির ঘাটতি রয়েছে। এই পানির ঘাটতি পূরণে নগরের বিভিন্ন বাড়িতে ব্যক্তিপর্যায়ে প্রায় পাঁচ হাজার গভীর নলকূপ রয়েছে। এসব নলকূপের প্রতিটিতে পাম্প দিয়ে পানি তোলা হয়।

তবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বরিশাল বিভাগীয় কমিটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বরিশাল নগরে ব্যক্তিপর্যায়ে গভীর নলকূপ রয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার। এসব নলকূপের প্রতিটির সঙ্গেই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সাবমারসিবল পাম্প দিয়ে প্রতিদিন ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে লাখ লাখ লিটার পানি তোলা হচ্ছে। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে।

গত মঙ্গলবার বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে বাপা ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদন বলছে, বরিশাল নগরে ৫৩ হাজার খানা (বাসা) রয়েছে। এতে প্রায় ৬ লাখ মানুষের বাস। বিভাগীয় শহরটিতে প্রতিবছরই জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। আগামী ১০ বছরে এই হার প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নগরের এই ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পানির চাহিদা পূরণ করতে হলে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবতে হবে এখনই।

নগরবাসী জানায়, নগরের সদর রোড, নিউ সার্কুলার রোড, চাঁদমারি, নথুল্লাবাদ, নাজিরমহল্লা, কাউনিয়া, আমানতগঞ্জ, ভাটিখানা, পলাশপুরসহ অনেক স্থানেই পানির স্তর পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ওই সব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নগরের পশ্চিম কাউনিয়ার বাসিন্দা রাকিবুল বলেন, চাপকলে এমনিতে পানি ওঠে না। তাই টিউবওয়েলের পানি ওঠাতে সাবমারসিবল পাম্প দীর্ঘ সময় ছেড়ে রাখতে হয়। সাপ্লাইয়ের পানিও পাওয়া যায় না।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ বলছে, বরিশাল নগরে বর্তমানে ভূগর্ভস্থ উৎসে তিনটি স্তরে সুপেয় পানি মেলে। এর মধ্যে ৭৮০ থেকে ৮২০ ফুট, ৮৮০ থেকে ৯৩০ ফুট এবং ৯৮০ থেকে ১ হাজার ৫০ ফুটে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রয়েছে। কিন্তু শীত-গ্রীষ্ম মৌসুমে এই স্তরেও পানি মেলে মেলে না। এই সময়ে পানির স্তর আরও ৩০ থেকে ৪০ ফুট নিচে নেমে যায়। দুই দশক ধরে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ কারণে বাড়ছে ভূমিধসের শঙ্কা।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মইনুল হাসান বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের ওপর অধিক মাত্রায় চাপ পড়ায় ক্রমশ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এ অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। সে ক্ষেত্রে বিকল্প উৎস হিসেবে সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টই হচ্ছে এখন ভালো বিকল্প।