পঞ্চগড় জেলা পরিষদ

ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ৫ প্রার্থী

আনোয়ার সাদাত, দেলদার রহমান, আপেল মাহমুদ, এমরান আল আমিন, জোহুরা বেগম
আনোয়ার সাদাত, দেলদার রহমান, আপেল মাহমুদ, এমরান আল আমিন, জোহুরা বেগম

পঞ্চগড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের শূন্যপদে ২৮ ফেব্রুয়ারি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীসহ মোট পাঁচজন। প্রার্থীদের মধ্যে পাঁচজনই সমানতালে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে এই নির্বাচনের উত্তাপ।
পঞ্চগড় জেলা পরিষদের শূন্য চেয়ারম্যান পদের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেন ছয়জন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট, বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আল আমিন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মির্জা সারোয়ার হোসেন, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ, পঞ্চগড় বিসিক নগর বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলদার রহমান এবং সদ্য প্রয়াত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আমানুল্লাহ বাচ্চুর স্ত্রী জহুরা বেগম। ১৩ ফেব্রুয়ারি যাচাই–বাছাইয়ে ছয় প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সাবিনা ইয়ামিন। পরে আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেন আনোয়ার সাদাত সম্রাট। ১৮ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে আপেল মাহমুদের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। পরে আপেল মাহমুদ উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে প্রার্থিতা ফিরে পান। আর শেষ দিন ১৯ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মির্জা সারোয়ার হোসেন।
প্রতীক বরাদ্দে আনোয়ার সাদাত সম্রাট মোটরসাইকেল, আপেল মাহমুদ চশমা, এমরান আল আমিন ঘোড়া, দেলদার রহমান আনারস এবং জহুরা বেগম টেবিল ফ্যান প্রতীক পান। নির্বাচনী মাঠে এখন পাঁচ প্রার্থী তাঁদের ব্যাপক প্রচার–প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছেন প্রার্থীরা।
আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, ‘আমাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিয়েছেন। তাঁর প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আশা করি সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জনপ্রতিনিধিরা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।’
দেলদার রহমান বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে পঞ্চগড়কে একটি আদর্শ জেলা পরিষদ হিসেবে গড়তে চাই। সেই সঙ্গে পঞ্চগড় জেলার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চাই। যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে ভোটারদের সাড়া অনুযায়ী জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’
এমরান আল আমিন বলেন, ‘নির্বাচিত হলে জেলার সার্বিক উন্নয়নের জন্য কাজ করার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সব উন্নয়নমূলক কাজে সহায়তা করতে চাই। সেই সঙ্গে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার বিনির্মাণে কাজ করতে চাই। নির্বাচনে ভোটারদের কাছ থেকে আমি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।’
আপেল মাহমুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমি নির্বাচিত হলে জেলা পরিষদকে নতুন আঙ্গিকে গড়ে তুলব। জনপ্রতিনিধিসহ সবাইকে সমান চোখে দেখব। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হব ইনশা আল্লাহ।’
জহুরা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী জেলার জন্য সব কাজ সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি। আমি নির্বাচিত হলে আমার স্বামীর রেখে যাওয়া অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পূর্ণ করতে চাই। আমার স্বামীর মতোই আমি মানুষের সেবায় নিজেকে নিবেদিত করতে চাই।’
জেলার পাঁচটি উপজেলার ১৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। পাঁচটি উপজেলা পরিষদ, দুটি পৌরসভা, ৪৩টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত ৫৮৩ জন জনপ্রতিনিধি জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদের নির্বাচনে আমানুল্লাহ বাচ্চু আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ১৩৫ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। গত ৯ জানুয়ারি রংপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।