ভ্রাম্যমাণ হাটে মেলে হরেক জাতের কবুতর

প্রতি শুক্রবার ভোরে এই হাট বসে, চলে বেলা ১১টা পর্যন্ত
ছবি: প্রথম আলো

শখ করে কবুতর পালেন মানিকগঞ্জ সদরের উচুটিয়া গ্রামের শাকিল আহমেদ (২৫)। তাঁর সংগ্রহে দেশীয় জাতের বেশ কিছু কবুতর আছে। তবে সম্প্রতি ফেসবুকে সিরাজি জাতের কবুতরের ভিডিও দেখে সেটি সংগ্রহ করার জন্য তাঁর আগ্রহ জাগে। অবশেষে গতকাল শুক্রবার সাতসকালে পছন্দের সেই কবুতরের খোঁজে শাকিল মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসেন। কারণ, প্রতি শুক্রবার সকালে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কবুতরের ভ্রাম্যমাণ হাট বসে।

কিছুটা দর–কষাকষির পর তিন হাজার টাকায় কাঙ্ক্ষিত সিরাজি জাতের এক জোড়া কবুতর কেনেন শাকিল। প্রতি শুক্রবার ভোরে এই হাট বসে, চলে বেলা ১১টা পর্যন্ত। জেলার সদর উপজেলা পরিষদের সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে বসে ভ্রাম্যমাণ এই হাট। তবে বর্তমানে মহাসড়কের উন্নয়নকাজ চলায় হাট বসানো নিয়ে কিছুটা সমস্যায় রয়েছেন বিক্রেতারা।

হাটে দেশীয় জাতের পাশাপাশি বিদেশি বিভিন্ন জাতের সাদা, কালো, বাদামিসহ হরেক রঙের কবুতর পাওয়া যায়। হোয়াইট কিং, সিলভার কিং, কাউরা, ডাউকা, আউল, কিং সিরাজি, হোমার, গিরিবাজ, গোল্ডেন সুইট শর্টফেস, জ্যাকোবিন, লোটনের মতো নানা জাতের কবুতরের দেখা মেলে এই হাটে। জাত ও রঙের কারণে এসব কবুতরের দামে ভিন্নতা আছে।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো হাট এলাকা সরগরম হয়ে উঠেছে। খাঁচাভর্তি কবুতর নিয়ে পেশাদার ও শৌখিন কবতুরপালকেরা বসে পড়েছেন হাটে। তবে কে ক্রেতা আর কে বিক্রেতা, তা বোঝা মুশকিল। কারণ, হাটের বিক্রেতাদের অধিকাংশই শৌখিন কবুতর পালনকারী। বাড়িতে পালন করা বাড়তি কবুতরগুলো বিক্রি করতে নিয়ে এসেছেন অনেকেই। এতে শখ পূরণের পাশাপাশি কবুতর বিক্রি করে তাঁদের আয়ও হচ্ছে।

বাড়িতে পালন করা বাড়তি কবুতরগুলো অনেকে বিক্রি করতে নিয়ে এসেছেন

দুই বছর আগে শখ করে কবুতর পালন শুরু করেন জেলা সদরের দীঘি গ্রামের মিজানুর রহমান। বাড়ির উঠানে কাঠ ও টিন দিয়ে কবুতরের ঘর তৈরি করেছেন। গতকাল সকালে তিনি দেশীয় জালালি জাতের চার জোড়া কবুতর নিয়ে আসেন হাটে। প্রতি জোড়া ৫০০ টাকা করে ২ হাজার টাকায় চার জোড়া কবুতর বিক্রি করেন।

ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, কেউ শখ করে কবুতর পালন করেন। আবার কেউ কেউ কবুতর পালনের মাধ্যমে সংসারের বাড়তি আয়ের পথ বেছে নিয়েছেন। কবুতর পালনে পুঁজি কম লাগে আর পালন সহজ ও লাভজনক হওয়ায় অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালনের দিকে ঝুঁকছেন। এক জোড়া কবুতর থেকে বছরে ১২ জোড়া বাচ্চা পাওয়া যায়, যার বাজারদর প্রায় তিন হাজার টাকা। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দায় এমনকি সানশেডের মতো ছোট জায়গায়ও কবুতর পালন করা সম্ভব।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কবুতর পালন সহজ বলে শিক্ষার্থী, বেকার যুবক কিংবা বয়স্করাও কবুতর পালন করতে পারেন। কবুতর পালনে পুঁজি কম লাগে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া যায়। চার-পাঁচ মাস বয়স থেকেই কবুতর ডিম দেওয়া শুরু করে। কবুতরের মাংস খেতে সুস্বাদু ও রোগীদের পথ্য হিসেবে খাওয়ার প্রচলন আছে। তাই বাজারে কবুতরের চাহিদাও বেশ।