
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা সীমান্তে গত সোমবার সন্ধ্যায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক কিশোর মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। তার নাম ফরিদ আলম। বিস্ফোরণে তার বাম পা উড়ে গেছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সড়র থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে চাকঢালা সীমান্তের হামিদিয়াপাড়া এলাকার ৪৩ নম্বর সীমান্ত পিলারের শূন্যরেখার অপর পাশে মিয়ানমারের অংশে এ মাইন বিস্ফোরণ ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৬ বছরের কিশোর ফরিদ আলম প্রতিবেশী নূরুল আমিনের সঙ্গে সন্ধ্যায় তার গরু খুঁজতে সীমান্তে গিয়েছিল। সেখানেই মাইন বিস্ফোরণ ঘটে। হতদরিদ্র পরিবারের কিশোর ফরিদের বাবা ইব্রাহিম খলিল মারা গেছেন কয়েক বছর আগে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক চিকিৎসক মাহফুজুর রহমান বলেন, আহত ফরিদ আলমকে চাকঢালা কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তার বাম পা উড়ে গেছে। এ ছাড়া হাত-পা ও শরীরের নিচের অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে। বাম চোখও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাকে কক্সবাজারের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের চাকঢালা এলাকার সদস্য ফরিদুল আলম জানিয়েছেন, আহত ফরিদ আলমের পরিবার হতদরিদ্র। বর্তমানে কক্সবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার বাম পা উড়ে গেছে। বাম হাতও কনুই পর্যন্ত ঝলসে গিয়ে হাড় বেরিয়ে পড়েছে। বাম চোখে সে কোনো কিছু দেখতে পাচ্ছে না।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমীর হোসেন বলেছেন, কিশোর ফরিদকে এলাকার লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করেছেন। মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনের সহিংসতা শুরুর পর রোহিঙ্গারা নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত অতিক্রম করে এ দেশে আসতে থাকে। তখন থেকে সীমান্তের শূণ্যরেখার মিয়ানমার অংশে স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এ পর্যন্ত বিস্ফোরণে ১৪ জন মারা গেছেন ও ১৫ আহত হয়েছেন।