
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় উভয়পক্ষের অন্তত ৯ জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বড়াইয়া ইউনিয়নের চল্লিশকাহনিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন—বরিশালের আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক শাহনামার বার্তা সম্পাদক মো. মামুনুর রশিদ ওরফে নোমানী (৪১), তাঁর মা পারুল বেগম (৬০) ও বোন লিপি বেগম (৩৫)। প্রতিপক্ষের আহত ব্যক্তিরা হলেন—আলম হাওলাদার (৪৮), দুলাল হাওলাদার (৫২), কালু মোল্লা (৫২), ফেরদৌস (২৫), দেলোয়ার হাওলাদার (৪৭) ও নুপুর বেগম (৩০)। তাঁরা পরস্পরের আত্মীয়।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বড়াইয়া ইউনিয়নে গরু জবাই করে স্থানীয় লোকজনকে দাওয়াত দেয় স্থানীয় একটি মাজার কর্তৃপক্ষ। ওই দিন দুপুরে সেখানে ভোজ শুরু হলে দেলোয়ার হাওলাদার নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে মামুনুর রশিদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। দেলোয়ারের সঙ্গে মামুনুরের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। পরে সেখান থেকে দেলোয়ার না খেয়ে চলে যান। এ নিয়ে পরবর্তী সময় চল্লিশকাহনিয়া বাজারে মামুনুর রশিদের ছেলে নাদিমের সঙ্গে দেলোয়ারের লোকজনের মারামারি হয়। পরে স্থানীয়ভাবে তা মীমাংসাও হয়। কিন্তু ওই ঘটনার জেরে গতকাল বিকেলে মামুনুর রশিদের লোকজনের সঙ্গে দেলোয়ারের লোকজনের বাজারে আবার সংঘর্ষ হয়। এতে ধারালো অস্ত্রের কোপে উভয় পক্ষের ৯ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের প্রথমে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে বরিশাল শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মামুনুর রশিদ বলেন, স্থানীয় একটি মসজিদসংলগ্ন কবরস্থান ও কালিমা লেখা তোরণ উচ্ছেদের পরিকল্পনা করছিলেন দেলোয়ারের লোকজন। তিনি বাধা দেওয়ায় তাঁকে ও তাঁর মা-বোনকে কুপিয়ে জখম করেছেন দেলোয়ার হাওলাদারের লোকজন।
আহত দেলোয়ার হাওলাদারের ভাবি মাহমুদা বেগম বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে সাংবাদিক মামুনুর রশিদ লোকজন নিয়ে আমাদের পরিবারের ওপর হামলা করে ছয়জনকে কুপিয়ে জখম করেন। এ ঘটনায় আমার ছেলে ফেরদৌসের পা গুরুতর জখম হয়েছে।’
রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবুল খায়ের মাহমুদ রাসেল বলেন, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দেলোয়ারের ভাতিজা ফেরদৌসের পায়ে গুরুতর জখম রয়েছে। অন্যদিকে মামুনুর রশিদের মাথায় ও তাঁর মায়ের কাঁধে কোপের জখম রয়েছে। এতে তাঁর মায়ের কাঁধের তাঁর হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলক চন্দ্র রায় প্রথম আলোকে বলেন, সংঘর্ষের খবর জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ এখন পর্যন্ত অভিযোগ করেনি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।