
মানিকগঞ্জে করোনা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রতিদিনই শনাক্ত ও মৃত্যু বাড়ছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় ১২১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৬ হাজার ২৭।
গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজন মারা গেছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে জেলা কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সিভিল সার্জনের কার্যালয় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
করোনা রোগীদের চিকিৎসায় গত বছরের ২ মে জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ১০০ শয্যার কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। চলতি বছরের জুন মাসের শেষের দিকে হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে শয্যার চেয়ে করোনায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা দুই গুণ ছাড়িয়ে যায়। এরপর থেকে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম অবস্থায় পড়তে হয়। এসব রোগীর বাড়তি চাপে শয্যার সংকুলান না হওয়ায় সম্প্রতি ১০০ শয্যার কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরপরও শয্যা থেকে রোগীর সংখ্যা বেশি। আজ শুক্রবার সকালে এই হাসপাতালে ৩১৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ এপ্রিল মানিকগঞ্জে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এই দিন সিঙ্গাইর পৌর এলাকায় একটি মাদ্রাসায় তাবলিগে আসা তিন মুসল্লির করোনা শনাক্ত হয়। এরপর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হতে থাকে। বাড়তে থাকে আক্রান্তের হার। গত বছরের ১৬ মে জেলায় করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
গত বছরের ডিসেম্বরে করোনার সংক্রমণ কমে আসে। তবে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকে। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে জেলায় করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যায়।
জেলার ২৫০ কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) কাজী এ কে এম রাসেল বলেন, জেলা কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে করোনা পজিটিভ ও উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৩৪ জন এবং করোনা পজিটিভ ওয়ার্ডে ২১ জন রোগী ভর্তি হন। সব মিলিয়ে আজ বেলা ১১টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৩১৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে করোনা ওয়ার্ডে ১৪১ জন এবং আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১৭৮ জন রোগী রয়েছেন।
জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে সিঙ্গাইর ছাড়া বাকি ছয়টিতে ৩১৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১২১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত ৩৮ দশমিক ৪১ শতাংশ। নতুন শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৮১ জন রয়েছেন। এ ছাড়া ঘিওরে ৮ জন, শিবালয়ে ১৬ জন, হরিরামপুরে ৮ জন, সাটুরিয়ায় ৩ জন ও দৌলতপুরে ৫ জন করে রয়েছেন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত জেলায় করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৭। তাঁদের মধ্যে ৩ হাজার ৪২২ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসচিব ও সিভিল সার্জন আনোয়ারুল আমিন আখন্দ বলেন, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও সাধারণ মানুষ রাস্তাঘাটে অবাধে চলাফেরা করছেন। তাঁরা প্রয়োজনে ও অপ্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছেন। তাঁদের অনেকেই মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না। বিশেষ করে গ্রামের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবল প্রবণতা রয়েছে। এসব কারণে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক ব্যবহার ও বিধিনিষেধ মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি।